মঙ্গলবার,

১৮ মে ২০২১

ফোনালাপ ফাঁস : ফল পাল্টাতে চাপ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৫১, ৪ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ০৪:৫৩, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

ফোনালাপ ফাঁস : ফল পাল্টাতে চাপ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প (ভিডিও)

ডোনাল্ড ট্রাম্প

চলতি মাসের ২০ তারিখ মার্কিন মসনদ ছাড়বেন রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার আগেরই এক বিশাল খড়্গ পড়লো তার উপর। একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে তার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার জন্য জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ নির্বাচন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিতে শোনা যায় তাকে!

ওই ফোন কলে ট্রাম্প নির্বাচন কর্মকর্তাকে হুঁশিয়ারি দেন, তার নির্দেশনা না মানলে তাকেসহ অনেককেই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ভোট সংগ্রহ করতে বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ফোনালাপের তথ্য প্রকাশ হয়। এই ফোনালাপ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে।

রিপাবলিকান সেক্রেটারি অব স্টেট ব্র্যাড রাফেনসপারজারের সঙ্গে ওই ফোনালাপে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘দেখুন। আমি শুধু এটি করতে চাই। আমি শুধু ১১ হাজার ৭৮০টা ভোট খুঁজে পেতে চাই, যা আমাদের এখনকার চেয়ে একটি বেশি। কারণ আমরা এই অঙ্গরাজ্যে জিতেছি।’

এর জবাবে রাফেনসপারজারকে বলেন, ‘আপনি ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কথা বলছেন। রাজ্যের ভোট একাধিকবার গণনা করা হয়েছে। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায় তিনি নতুন করে ভোট খোঁজে পাওয়ার কাজ যে করবেন না।’

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রথমে ব্র্যাড রাফেনসপারজারকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তার প্রশংসায় নানা কথা বলেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার জন্য বলেন। এতেও কাজ না হলে অপরাধের ভুয়া অভিযোগে ফাঁসানোর হুমকি দেন। একপর্যায়ে ট্রাম্প বলে বসেন, ব্র্যাড রাফেনসপারজার খুব বড় ঝুঁকি নিচ্ছেন।

এদিকে ফোনালাপ ফাঁসের সংবাদ প্রকাশের পর একটি টুইট করেছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিতও করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি গতকাল সেক্রেটারি অব স্টেট অব ব্র্যাড রাফেনসপারজারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমরা ফুল্টন কান্ট্রি এবং ভোট জালিয়াতি নিয়ে কথা বলেছিলাম। তিনি টেবিলের নিচের ব্যালটকাণ্ড, ব্যালট ধ্বংস, রাষ্ট্রের বাইরে থাকা ভোটার, আরও অনেক ব্যাপারে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। এমনকি তার কাছে কোনো তথ্যই নেই।’

জর্জিয়ায় ট্রাম্পের চেয়ে ১১ হাজার ৭৭৯ ভোট বেশি পেয়ে জয় লাভ করেছেন বাইডেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। জর্জিয়ায় একাধিকবার ফলাফল গণনা করা হয়েছে। এরপরেও সেখানে বাইডেনের বিজয়ই নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ৬ জানুয়ারি সিনেটে এই ফলাফল অফিসিয়ালভাবে অনুমোদন লাভ করবে তা প্রায় নিশ্চিত। এ ছাড়া কয়েকটি রাজ্যে ফলাফল বদলানোর চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি।