চীনা বিজ্ঞানীরা ভূমিভিত্তিক প্রধান উদ্ভিদ গোষ্ঠীর জিনগত নকশা উন্মোচনে একটি আন্তর্জাতিক মেগা-বিজ্ঞান প্রকল্প শুরু করেছেন। এ কাজে নেতৃত্বে আছে চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস-এর অধীন শেনচেনভিত্তিক অ্যাগ্রিকালচারাল জিনোমিকস ইনস্টিটিউট অ্যাট শেনচেন (এজিআইএস)। প্রকল্পের লক্ষ্য—উদ্ভিদ জগতের একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ট্রি অব লাইফ’ বা বংশলতিকা নির্মাণ এবং খাদ্যনিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা।
‘প্লা-নেট’ নামের এ উদ্যোগ বুধবার বেইজিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এজিআইএস-এর পাশাপাশি বোটানিক্যাল সোসাইটি অব চায়না, পিকিং ইউনিভার্সিটি এবং ১৫টি দেশ ও অঞ্চলের ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে।
প্রকল্পটির প্রধান গবেষক ওয়াং লি জানান, অনুমানিক ৪ লাখ ৫০ হাজার ভূমিভিত্তিক প্রজাতির ৯৯ শতাংশেরও বেশি উদ্ভিদের উচ্চমানের রেফারেন্স জিনোম নেই। এই ডেটা-ঘাটতি উদ্ভিদের বিবর্তন ও সক্ষমতা বোঝায় বড় বাধা। ‘প্লানেট’ পদ্ধতিগতভাবে জিনোম ডেটাবেসে অনুপস্থিত উদ্ভিদ অর্ডার ও ফ্যামিলিগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে ফাইলোজেনোমিক পদ্ধতিতে প্রধান উদ্ভিদ গোষ্ঠীর বিবর্তন-সম্পর্ক ও বিচ্ছিন্নতার সময়রেখা নির্ধারণ করবে।
এক্ষেত্রে বড় পরিসরের জিনোম ডেটা প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। গবেষকরা ‘জিনোমিক ল্যাঙ্গুয়েজ ফাউন্ডেশন মডেল’ প্রয়োগ করে হাজারো উদ্ভিদের ডিএনএ সিকোয়েন্সে নিয়ন্ত্রক উপাদানের গঠন এবং কার্যকর মডিউলের কোডিং প্যাটার্ন শনাক্ত করবেন। ওয়াং লির ভাষায়, ৪৭ কোটি বছরের বিবর্তনের মৌলিক নিয়ম বুঝতে এই ‘ভাষা’ উন্মোচন অপরিহার্য।
প্রচলিত সংরক্ষণ পদ্ধতিগুলো দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল। প্লানেট জিনোমিক সূচকের মাধ্যমে জিনেটিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতি দ্রুত শনাক্ত করা যাবে। এতে রোগপ্রতিরোধী, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল জিন অনুসন্ধানের মাধ্যমে ‘ভবিষ্যতের ফসল’ উদ্ভাবনের কাজও সহজ হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

