মানবজীবন ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য ‘এম্বডিড এআই‘ প্রযুক্তি বিকাশে কাজ করছেন চীনা উদ্যোক্তা ও গবেষক চাং চেংথাও। তার প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত উদ্ভাবন হলো একটি রোবট ব্যান্ড, যেখানে ড্রাম, গিটার ও কিবোর্ড বাজানো রোবটগুলো নির্ভুল ও সমন্বিতভাবে পারফর্ম করতে পারে। একই প্রযুক্তি এখন জুতা তৈরিসহ সূক্ষ্ম শিল্প উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে মানবকর্মীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে কাজ শিখছে রোবট।
কখনও গিটার, কখনও ড্রামস, কখনও কিবোর্ড—এক মঞ্চে চার রোবটের নিখুঁত সঙ্গীত পরিবেশনা দেখে যে কেউই প্রথমে বিস্মিত হবেন। এই প্রদর্শনী কেবল বিনোদনের জন্য নয়; এর মাঝে আছে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, যা শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন জীবন পর্যন্ত বদলে দিতে পারে।
এসবের পেছনে আছেন চীনা উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ চাং চেংথাও। মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে তিনি ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন চংখে হুইলিং রোবোটিক্স। তার প্রতিষ্ঠান এমবডিড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং শিল্পখাতের জন্য তৈরি করছেন এমন বুদ্ধিমান রোবট।
এ প্রতিষ্ঠানেরে সবচেয়ে আলোচিত উদ্ভাবন হলো, চার সদস্যের একটি রোবট ব্যান্ড। ড্রামস, কিবোর্ড, লিড গিটার ও বেজ গিটার বাজানো রোবটগুলো মানুষের মতো সূক্ষ্ম হাতের নড়াচড়া, মিলিসেকেন্ডের মধ্যে সমন্বয় এবং স্বাভাবিকভাবে মঞ্চ উপস্থাপনা করতে পারদর্শী।
উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ চাং চেংথাও বলেন, ‘রোবটগুলোর সমন্বিত পরিবেশনা নিশ্চিত করতে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মোশন কন্ট্রোল প্রযুক্তির নানা জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। রোবট ব্যান্ড আমাদের প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য নয়; এটি প্রযুক্তির সক্ষমতারই একটি প্রদর্শন।’
তার পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল মানুষের মতো টেবিল টেনিস খেলতে সক্ষম হিউম্যানয়েড রোবট। সেই গবেষণাকে বাস্তব রূপ দিতে যাত্রাটা শুরু হয় একজন উদ্যোক্তা হিসেবে। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে অনেক শিল্পকারখানায়।
গবেষণার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দক্ষ জনবল তৈরিতেও কাজ করছেন চাং। তিনি বেইজিং কী ল্যাবরেটরি অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল এমবডিড রোবোটিক্সের পরিচালক ও ডক্টরাল সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তার নেতৃত্বে শতাধিক গবেষক ও শিক্ষার্থী এমবডিড রোবোটিক্স এবং এআইভিত্তিক বুদ্ধিমান রোবট নিয়ে গবেষণা করছেন।
চাংয়ের বিশ্বাস, প্রযুক্তির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতের রোবট শুধু চিন্তা ও শেখার ক্ষমতাই অর্জন করবে না , শিল্পখাতে উৎপাদন বাড়ানো , মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সহায়তা করে জীবনকে আরও নিরাপদ, উৎপাদনশীল ও অর্থবহ করে তুলবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

