ভেনেজুয়েলায় মজুত সোনা ও হীরার ভাণ্ডার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

সোমবার,

১২ জানুয়ারি ২০২৬,

২৮ পৌষ ১৪৩২

সোমবার,

১২ জানুয়ারি ২০২৬,

২৮ পৌষ ১৪৩২

Radio Today News

ভেনেজুয়েলায় মজুত সোনা ও হীরার ভাণ্ডার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪১, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
ভেনেজুয়েলায় মজুত সোনা ও হীরার ভাণ্ডার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ভেনেজুয়েলা কেবল বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুতই নয়, বরং মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা বিশাল স্বর্ণ ও হীরার ভাণ্ডারের কারণেও এখন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। 

সম্প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাতের পাশাপাশি এই বিপুল খনিজ সম্পদ পুনর্গঠনের মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। 

ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারি স্বর্ণের মজুত থাকা এই দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৬৪৪ মেট্রিক টন সোনা এবং ১ হাজার ২৯৫ মিলিয়ন ক্যারেট হীরার মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হলো এই সম্পদগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা এবং এর বিশাল খনিজ খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন নিশ্চিত করা।

ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে ১৬১ মেট্রিক টন স্বর্ণের পাশাপাশি দেশটির ‘ওরিনোকো মাইনিং আর্ক’ অঞ্চলে আরও বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত স্বর্ণের ভাণ্ডার রয়েছে। ২০১৮ সালের একটি খনিজ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ৬৪৪ মেট্রিক টন সোনা থাকার অনুমান করা হলেও সরকারি দাবি মতে এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশটিতে ইস্পাত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানের যে বিশাল ভাণ্ডার নষ্ট হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তা পুনরুদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। মূলত তেলের বাইরেও এই খনিজ সম্পদগুলোই এখন বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর প্রধান আকর্ষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হীরা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভেনেজুয়েলা একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে স্বীকৃত। দেশটির বিভিন্ন খনিগুলোতে প্রায় ১ হাজার ২৯৫ মিলিয়ন ক্যারেট হীরার বিশাল মজুত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে এই খনিজ ক্ষেত্রগুলোর একটি বড় অংশ বর্তমানে রাষ্ট্রবহির্ভূত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

অবৈধ খনন ও চোরাচালানের ফলে দেশীয় অর্থনীতি এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ থেকে খনিগুলোকে মুক্ত করে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার এই খনিজ সম্পদ রক্ষা এবং উত্তোলন নিশ্চিত করা নতুন প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীদের উচ্ছেদ এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তা সত্ত্বেও, তেলের পাশাপাশি সোনা ও হীরার এই বিশাল আকর দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে গভীর আগ্রহের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে এই প্রাকৃতিক সম্পদের বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের