মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে চীন। কূটনৈতিক তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, অপরিশোধিত তেল এবং কাতারের এলএনজি বহনকারী জাহাজ যাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে, সে জন্য তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে বেইজিং। চীন মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটি তাদের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪৫ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পেয়ে থাকে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, ‘আইরন মেইডেন’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যাত্রাপথে জাহাজটি নিজেদের সিগন্যাল পরিবর্তন করে ‘চীন-মালিকানাধীন’ হিসেবে দেখায়।
সংঘাত শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সার তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পরদিন ১ মার্চ হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করছিল।
ভর্টেক্সা ও জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩০০টি তেলবাহী জাহাজ প্রণালির ভেতরে অবস্থান করছে।
এর আগে ইরান সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপীয় দেশ ও তাদের মিত্রদের মালিকানাধীন কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। তবে চীনের বিষয়ে ওই ঘোষণায় কিছু বলা হয়নি।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

