ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘ই১’ এলাকায় নতুন করে ১,২০০টির বেশি বসতি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসরায়েল। দেশটির এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো ও জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একটি স্বাধীন ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব এক পৃথক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই পরিকল্পিত ‘ই১’ প্রকল্পকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য একটি ‘অস্তিত্বের হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দখলকৃত ভূখণ্ডে জোরপূর্বক জনমিতিক পরিবর্তন আনার এই চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে ‘ই১’ নামে পরিচিত প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এলাকাটি পূর্ব জেরুজালেম এবং ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র চাপ ও বিশ্বজনমতের কারণে বহু বছর ধরে এই এলাকায় বড় ধরনের নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
তবে সব কূটনৈতিক তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ৩,৪০১টি অনুমোদিত আবাসন ইউনিটের মধ্যে ১,২৩৪টির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৯ অক্টোবর। লক্ষণীয় বিষয় হলো, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগে এই দরপত্র শেষ হওয়ায়, ভোটের পর নতুন কোনো সরকার ক্ষমতায় এলেও চলমান এই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাতিল করা অত্যন্ত কঠিন হবে।
ফিলিস্তিন প্রশাসন ও ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্রদের আশঙ্কা, ‘ই১’ এলাকায় ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারিত হলে দখলকৃত পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে—উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল। এর ফলে রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম এবং বেথলেহেমের মতো ঐতিহাসিক শহরগুলোকে যুক্ত করে ভবিষ্যতে যে ধারাবাহিক ও অখণ্ড ফিলিস্তিনি নগরাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, তা চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নির্মাণ করা প্রতিটি বসতিকে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ হিসেবে গণ্য করে জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়। যদিও ইসরায়েল বরাবরই এসব আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে আসছে।
২০২২ সালের শেষ দিকে ডানপন্থী ও উগ্র বসতিপন্থী জোট নিয়ে ক্ষমতায় বসার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখ এড়িয়ে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ কার্যক্রম থামায়নি নেতানিয়াহু প্রশাসন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

