বেলুচিস্তানে সেনা অভিযান, ৭২ ঘণ্টায় নিহত ৪৮

শনিবার,

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২০ ভাদ্র ১৪৩৩

শনিবার,

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২০ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

বেলুচিস্তানে সেনা অভিযান, ৭২ ঘণ্টায় নিহত ৪৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১৮, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
বেলুচিস্তানে সেনা অভিযান, ৭২ ঘণ্টায় নিহত ৪৮

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় গত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারত-সমর্থিত গোষ্ঠীর ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের সবাই ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর)।

সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলছে, বেলুচিস্তানের মাস্তুং, কোয়েটা, কালাত এবং সিবিতে ‘ভারতীয় মদদপুষ্টদের’ বিরুদ্ধে একাধিক গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালিয়ে ৩৬ ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, ৪ সেপ্টেম্বর মাস্তুংয়ে একটি অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের গতিবিধি শনাক্ত করে তাদের ওপর হামলা চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। তীব্র গোলাগুলির পর ছয় ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ধ্বংস করা হয়েছে অনেক বিস্ফোরক যন্ত্র।

বিবৃতিতে বলা হয়, আরেকটি সংঘর্ষে কোয়েটা জেলার শাবান এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সেনারা ‘খাওয়ারিজদের’ চারটি আস্তানা শনাক্ত করে এবং ২৬ জনকে হত্যা করে। এছাড়া কালাতে নিরাপত্তা বাহিনী একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ‘দুই ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করে।

সিবি জেলার ভাগ এলাকায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে ভাগ পুলিশ স্টেশনে হামলার একটি সন্ত্রাসী চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়।

এ সময় গোলাগুলিতে দুই ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

পাক সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আরো জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থাগুলোর ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পরিকল্পনার অধীনে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণগতিতে অব্যাহত থাকবে। দেশ থেকে বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থনে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের হুমকি নির্মূলের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি। মূলত বেলুচিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার নিষিদ্ধঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ বলে আখ্যায়িত করে থাকে পাকিস্তান।

ইসলামাবাদ বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, এই দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন ও সহযোগিত রয়েছে নয়াদিল্লির।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে। সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে পাকিস্তানে সহিংসতার প্রধান কেন্দ্র খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে সহিংসতায় যত মানুষ নিহত হয়েছে, তার প্রায় ৯৬ শতাংশই ঘটেছে এই দুই প্রদেশে। মোট নিহতদের মধ্যে ৬১ শতাংশের বেশি অর্থাৎ ৪৭৫ জন খাইবার পাখতুনখোয়ায় এবং ৩৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৬৫ জন নিহত হয়েছে বেলুচিস্তানে। এ ছাড়া সহিংসতার ঘটনাও সবচেয়ে বেশি ঘটেছে খাইবার পাখতুনখোয়ায়। সেখানে ১৫১টি ঘটনা ঘটেছে, যা দেশজুড়ে মোট ঘটনার ৫৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে বেলুচিস্তান, যেখানে ৯৪টি ঘটনা বা ৩৫ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রদেশ দুটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের ঘনত্বের বিষয়টি উঠে এসেছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের