বুধবার,

০৪ নভেম্বর ২০২৬,

২০ কার্তিক ১৪৩৩

বুধবার,

০৪ নভেম্বর ২০২৬,

২০ কার্তিক ১৪৩৩

Radio Today News

বিশ্লেষণ

একসঙ্গে কোণঠাসা, ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর শেষের শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:০৩, ৪ নভেম্বর ২০২৬

Google News
একসঙ্গে কোণঠাসা, ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর শেষের শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাসে পরিবর্তন এলো না। কয়েক দশকের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল ক্ষমতাসীন দল। যা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতার জন্য একটি বড় ধাক্কা। 

একই রকম ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার তাঁর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা শুরু হচ্ছে। যেটির সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবারের মধ্যে সামনে আসতে পারে।

কয়েকদিনের ব্যবধানে হওয়া দুই দেশের নির্বাচন প্রভাবশালী নেতাদের ক্ষমতার শেষের শুরু করেছে। তাঁদের রাজনৈতিক পতন অবশ্যম্ভাবী- সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। বরং বলা যায়, তাঁরা দুজনই এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে ক্ষমতা ধরে রাখার চেয়ে ক্ষমতার শর্তগুলো নিজেদের পক্ষে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল কংগ্রেসে তাঁর দলের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর মেয়াদ এখনই শেষ হচ্ছে না। নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফল সরাসরি সরকার গঠনের প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর দল লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সমর্থন নেই।

কীভাবে তাঁরা শেষের দ্বারপ্রান্তে এলেন
বুধবার বেলা আড়াইটায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রয়োজনীয় ২১৮ আসনের বিপরীতে তারা জিতেছে ২২৫টিতে। ভোট গণনার প্রক্রিয়ায় থাকা আরও ৩৮টি আসনে দলটি এগিয়ে আছে। 

উচ্চকক্ষ সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫১টি আসন অতিক্রম করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ৫৪টিতে নিশ্চিতভাবে জিতেছে, এগিয়ে আছে আরও একটিতে। বিপরীতে পরিষদ ও সিনেট উভয়কক্ষে রিপাবলিকানরা পেয়েছে যথাক্রমে ১৩৬ ও ৪৩ আসন। চূড়ান্ত ফলাফলে সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে।

এই ফলকে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে জনমতের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটারদের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় মেয়াদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও শুল্কের প্রভাব সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন বণ্টনের লড়াই ছিল না; এটি ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর এক ধরনের গণভোটে পরিণত হয়।

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর সংকটের ধরন ট্রাম্পের থেকে আলাদা। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তাঁর দল লিকুদ পার্টি নেসেটের ১২০ আসনের মধ্যে এককভাবে ২৭টি পেয়েছে। জোটের শরিকদের আসন মিলিয়ে তা দাঁড়ায় ৫৩টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। বিরোধী জোট ৪৮ আসন পেলেও তাদের সমর্থন দিচ্ছে ১৯ আসন পাওয়া আরব দলগুলো। ফলে বিরোধীরা সরকার গঠনের দৌঁড়ে অনেকটাই এগিয়ে।

বুধবার ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি সরকার গঠনের জন্য সম্ভাবনাময় জোটের একজন নেতাকে দায়িত্ব দেবেন। দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধীদের সঙ্গে আরবদের সমর্থন থাকায় প্রথমে গাদি আইজেনকোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়াগুলোতেও শেষের আবেগের বার্তা আছে। নির্বাচনের আগেরদিন গত সোমবার ট্রাম্প তাঁর ভাষণে নীতিগত বিষয় নিয়ে খুব একটা কথা বলেননি। বরং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং ওয়াশিংটনকে আরও সুন্দর করে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলেন। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের অবসরের প্রস্তুতির মতো বার্তা।

অপরদিকে নেতানিয়াহু সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী- তিনি বলেছেন, ‘জয় চুরি হয়ে গেছে।’

দুজনের ক্ষেত্রে এরপর কী?
ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হবে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। ডেমোক্র্যাটরা এখন তদন্ত কমিটি গঠন, শুনানি ও তলবের ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখতে পারবে। সেটি হলে বাজেট, ঋণসীমা, শুল্কনীতি ও যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।

তবে নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ফল মেনে নিতে প্রস্তুত এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আপত্তি নেই। কিছুদিন আগেও নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের নীতির বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। এখন তিনি সুর নরম করেছেন বলে মনে হচ্ছে।

কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানো মানেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা শেষ নয়। ট্রাম্পের হাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নীতি পরিচালনার সুযোগ থাকবে। তাই ডেমোক্র্যাটরা তাঁর পথ কঠিন করতে পারলেও সব সিদ্ধান্ত থামিয়ে দিতে পারবে না।

মঙ্গলবার এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে বলে, নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করতে পারেন। একই প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি গবেষণার প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের রায়ান হাস বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ‘নিরলসভাবে সক্রিয়’ থাকবেন বলে মনে হচ্ছে। কানাডার প্রতি তাঁর সাম্প্রতিক বৈরী মনোভাবেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে।

এদিকে নেতানিয়াহুকে আপাতত বিরোধী জোটের সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক যদি বিরোধী জোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন, তবে তারা ৪২ দিন সময় পাবে। এ সময়ে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের মাধ্যমে স্থায়ী সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। তারা সেটি করতে ব্যর্থ হলে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন নেতানিয়াহু।

বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে গত ২৮ অক্টোবর রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে বলে, তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। বিশেষ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে। তবে দেশকে যুদ্ধে নামানোর মতো ক্ষমতা তাঁর হাতে থাকবে বলে জানিয়েছেন তেল আবিবভিত্তিক তাচলিথ ইনস্টিটিউটের গবেষক ওর আশের।

মধ্যপ্রাচ্য: পালাবদলের প্রভাব কেমন হবে?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের নির্বাচনী ধাক্কা তাঁকে ইরান নীতিতে নতুন করে হিসাব করতে বাধ্য করবে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য, জ্বালানির দাম এবং কংগ্রেসের নজরদারি মিলিয়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক ব্যয় বাড়বে।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু যদি সরকার গঠন করতে না পারেন, তাহলে ইসরায়েলের নতুন নেতৃত্ব গাজা, ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে শুরুর দিনগুলোতে সংযমের কৌশল নিতে পারে। কারণ, বিরোধী জোটকে সমর্থন দেওয়া আরব দলগুলো ইতোমধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যুতে নানা শর্ত দিয়েছে।

ইসরায়েলে নতুন সরকার এলেই মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, নিজেদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক হুমকি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনেক বিষয়ে ঐকমত্য আছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক পালাবদলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে চাপ তৈরি হতে পারে। গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের প্রতি ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন অনেক কমে গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, দলটি ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা সীমিত বা বন্ধ করতে পারে।

সহায়তার বিষয়ে ট্রাম্প নিজেও ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ চলাকালে তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর একটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় ইসরায়েলকে বছরে দেওয়া ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সহায়তা ২০২৭ সাল থেকে বন্ধ হবে। তবে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন।

বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব কেমন হবে?
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেই ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে এতে অনেকটা লাগাম টানেন ফেডারেল আদালত। ডেমোক্র্যাটরাও এখন নির্বাহী বিভাগের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকেম জেফরিস এ নিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। পরিষদে সম্ভাব্য প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে যাওয়া জেফরিস বলেছেন, ট্রাম্পের শুল্ক প্রত্যাহার বা ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়টি তাদের প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকারে থাকবে।

প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত বা বাতিল করতে ডেমোক্র্যাটরা গত কয়েক মাসে কয়েকটি বিল উত্থাপন করেছে। আগামী জানুয়ারিতে শপথ নিতে যাওয়া নতুন কংগ্রেসে এসব বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এছাড়া, দলটি ট্রাম্প প্রশাসনের করা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি এবং শুল্ক ছাড়ের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য দুর্নীতি নিয়েও তদন্তের পরিকল্পনা করছে।

ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর প্রণয়ন করা কোনো নীতির বিরুদ্ধে আইন পাস হলে তাতে ভেটো দেবেন। ফলে এক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরির একটি আশঙ্কা আছে।

তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ানো ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দুর্বলতা তাঁকে কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই সম্প্রতি বলেছেন, পুনরায় আলোচনা শুরুর জন্য তারা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের একটি চিঠি পেয়েছেন। যেখানে বক্তব্যের সুরে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ আছে।

ইরান যুদ্ধ বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে স্বস্তি মিলতে পারে। তবে নির্বাচনী ব্যর্থতার অভ্যন্তরীণ সমালোচনা থেকে মনোযোগ সরাতে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভোটের আগে তিনি বলেছিলেন, ইরানের দু-একটি লক্ষ্যবস্তুতে এখনো হামলা চালানো বাকি।

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির সঙ্গে ইরানে ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার বিষয়টিও যুক্ত। এক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য বিদায় বা দুর্বল সরকার ইসরায়েলের সামরিক সিদ্ধান্তে নতুন ভারসাম্য আনতে পারে। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা রাতারাতি না কমলেও তেলবাজার ও বাণিজ্যপথে স্বস্তি আসতে পারে। বিপরীতে সংঘাত বাড়লে প্রভাব পড়বে এশিয়া-ইউরোপের জ্বালানি আমদানি, সরবরাহ ব্যবস্থা ও মূল্যস্ফীতিতে।

যেখানে প্রশ্ন থেকে যায়
যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা কোনো এক-দুজন নেতার বিদায়ে শেষ হওয়ার মতো বিষয় নয়। রাজনৈতিক পালাবদল যদি নীতির পরিবর্তন না আনে, তাহলে নেতৃত্ব বদলালেও সংকটের চরিত্র বদলাবে না।

সুতরাং ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সত্যিই রাজনৈতিক সমাপ্তির মুখে কি না, তার চেয়েও জরুরি একটি প্রশ্ন উঠছে। সেটি হলো- তাঁদের পরবর্তী অধ্যায় কি মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন পথ খুলবে, নাকি পুরোনো সংঘাতেরই ভিন্ন রূপ তৈরি করবে?

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের