জিয়াউল আহসান একজন ‘সিরিয়াল কিলার’: সাবেক সেনাপ্রধান

মঙ্গলবার,

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

১২ ফাল্গুন ১৪৩২

মঙ্গলবার,

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

১২ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

জিয়াউল আহসান একজন ‘সিরিয়াল কিলার’: সাবেক সেনাপ্রধান

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:৪২, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
জিয়াউল আহসান একজন ‘সিরিয়াল কিলার’: সাবেক সেনাপ্রধান

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান একজন ‘সিরিয়াল কিলার’, এ কথা জানার পরও কেন ব্যবস্থা নেননি– এমন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তাঁকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটো। জবাবে সাবেক এ সেনাপ্রধান বলেন, ‘জিয়াউল আহসান সিরিয়াল কিলার– এ কথা জানার পরও আমি লিখিত কোনো ব্যবস্থা নিইনি। কারণ, সে আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।’

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয় ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আগের দিন তিনি জিয়াউল আহসানকে একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ বলে জানান। গতকাল সোমবারও তাঁর জেরা শেষ না হওয়ায় আগামী ১ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

জেরায় ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ও পারসোনাল সার্ভিসে জিয়াউল আহসান সিরিয়াল কিলার মর্মে উল্লেখ ছিল কিনা, মনে নেই। জিয়া সিরিয়াল কিলার মর্মে সেনাবাহিনীর কোনো দপ্তরে কোনো রেকর্ডপত্রে উল্লেখ আছে কিনা– আমার মনে নেই। তবে আমি বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি, জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যগুলো লিখিত নয়।’ আইনজীবীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘আমার সিনিয়র থাকলেও আমাকে সেনাপ্রধান করার ঘটনাকে নিয়মের ব্যত্যয় মনে করি না। পদোন্নতির ক্ষেত্রে কেবল সিনিয়রিটি বিবেচ্য নয়।’

গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই সেনাপ্রধানের নিয়ন্ত্রণে ছিল না জানিয়ে ইকবল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘ডিজিএফআই প্রতিরক্ষা মন্ত্রাণালয়ের অধীনে ছিল। তখন প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তিন বাহিনীর সমন্বয়ে ডিজিএফআই পরিচালিত হয়। সামরিক অফিসাররা ডিজিএফআইয়ে প্রেষণে যোগদানের পর সেনাপ্রধানের নিয়ন্ত্রণে থাকেন না। মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স সরাসরি সেনাপ্রধানের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে সময়ের ব্যতয় ঘটেছে।’ 

তিনি বলেন, ‘জিয়াউল আহসানের প্রভাবে ডিএমআই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুলকে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্যত্র বদলি করা হয়। তবে পোস্টিংয়ের তারিখ বলতে পারব না। মাঝে মাঝে নিজের জন্ম তারিখও মনে থাকে না।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুলকে নৈতিক স্খলনজনিত কারণে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি আমার জানা নেই। কারণ, তার অবসর হয়েছে আমার অবসরে যাওয়ার পর।’

২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সেনাপ্রধান থাকাকালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে কোনো বিষয়ে কোনো তদন্তের নির্দেশ দেননি বলেও এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে সময় তিনি সেনাপ্রধানের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিলেন না। ইকবাল করিম বলেন, ‘তাকে (জিয়াউল আহসান) আমি সেনাবাহিনীতে ফেরত আনার চেষ্টা করেছি; কিন্তু আনা সম্ভব হয়নি।’

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের