মাড়ি ও দাঁতের ক্ষতির আশঙ্কা কতদিন পর পর ব্রাশ বদলাবেন?

শনিবার,

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২ ফাল্গুন ১৪৩২

শনিবার,

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

মাড়ি ও দাঁতের ক্ষতির আশঙ্কা কতদিন পর পর ব্রাশ বদলাবেন?

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:৫৬, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
মাড়ি ও দাঁতের ক্ষতির আশঙ্কা কতদিন পর পর ব্রাশ বদলাবেন?

দাঁত ও মাড়ির সুস্থতার জন্য দিনের শুরু আর শেষ, দু’সময়েই হাতে নিতে হয় টুথব্রাশ। দাঁতের যত্নে টুথব্রাশের গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমরা অনেকেই ব্রাশ বদলাতে অনেকটাই উদাসীন। বেশির ভাগ মানুষ ব্রাশ বদলান তখনই, যখন ব্রিসল পুরোপুরি বেঁকে যায় বা দেখতে একেবারেই খারাপ লাগে। কিন্তু ডেন্টাল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দৃশ্যমান ক্ষয় নয়, এর বাইরেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণে নিয়মিত টুথব্রাশ বদলানো জরুরি।

ডেন্টাল এক্সপার্টদের মতে, সাধারণভাবে প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস অন্তর টুথব্রাশ বদলানো উচিত। কারণ, এই সময়ের মধ্যেই ব্রাশের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়।

ব্রাশের কার্যকারিতা কমে যায়

নিয়মিত দাঁত মাজার ফলে টুথব্রাশের ব্রিসল ধীরে ধীরে নরম ও ছড়ানো হয়ে পড়ে। এতে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা প্লাক, খাদ্যকণা ও জীবাণু আর ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না। শক্ত ও সোজা ব্রিসল দাঁতের ওপর জমে থাকা ময়লা তুলতে সবচেয়ে কার্যকর। ব্রিসল যদি ছড়িয়ে যায় বা আগের মতো না থাকে, তা হলে দাঁত পরিষ্কারের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যারা খুব জোরে ব্রাশ করেন বা দিনে একাধিকবার দাঁত মাজেন, তাদের ক্ষেত্রে ১-২ মাসের মধ্যেই ব্রাশ বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।

জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি

টুথব্রাশ সব সময়ই মুখের জীবাণুর সংস্পর্শে থাকে। প্রতিবার ব্যবহারের পর এতে লেগে থাকে ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও নানা অণুজীব। বিশেষ করে যদি ব্রাশ বাথরুমে খোলা অবস্থায়, পানির কাছাকাছি রাখা হয় এবং ভালোভাবে শুকানোর সুযোগ না পায়। তাহলে জীবাণুও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই জীবাণু আবার পরেরবার ব্রাশ করার সময় মুখের ভেতরে ঢুকে দাঁত ও মাড়ির নানা রোগের কারণ হতে পারে।

মাড়ি ও দাঁতের ক্ষতির আশঙ্কা

পুরোনো ও ক্ষয়প্রাপ্ত ব্রিসল মাড়ির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ভাঙা বা শক্ত হয়ে যাওয়া ব্রিসল মাড়িতে আঁচড় কাটতে পারে। যার ফলে রক্তপাত বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় মাড়ি সরে যাওয়ার পেছনেও নষ্ট টুথব্রাশ দায়ী থাকে। নতুন, নরম কিন্তু কার্যকর ব্রিসল মাড়ির ক্ষতি না করেই দাঁত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

অসুস্থতার পর ব্রাশ বদলানো জরুরি

জ্বর, সর্দি, ফ্লু বা গলার সংক্রমণের মতো অসুখের সময় টুথব্রাশে রোগজীবাণু জমে থাকতে পারে। অসুস্থতা সেরে যাওয়ার পর সেই পুরোনো ব্রাশ ব্যবহার করলে জীবাণু আবার শরীরে ফিরে আসার ঝুঁকি থাকে। তাই অনেক ডেন্টিস্টই পরামর্শ দেন, এমন রোগ থেকে সেরে ওঠার পর নতুন টুথব্রাশ ব্যবহার করতে।

শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

শিশুরা অনেক সময় ব্রাশ চিবিয়ে ফেলে বা বেশি জোরে দাঁত মাজে। ফলে তাদের টুথব্রাশ তুলনামূলক দ্রুত নষ্ট হয়। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উচিত নিয়মিত ব্রাশ পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে ২-৩ মাসের মধ্যেই বদলে দেওয়া।

সব মিলিয়ে বলা যায়, টুথব্রাশ বদলানো শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়। বরং দাঁত ও মাড়ির দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই পরের বার ব্রিসল একটু ছড়ালেই ভাবুন-নতুন ব্রাশ নেওয়ার সময় কি এসে গেছে?

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের