রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়

মঙ্গলবার,

১৭ মার্চ ২০২৬,

৩ চৈত্র ১৪৩২

মঙ্গলবার,

১৭ মার্চ ২০২৬,

৩ চৈত্র ১৪৩২

Radio Today News

ধীরগতির কারণে ভোগান্তি

রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৩০, ১৭ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১০:০৪, ১৭ মার্চ ২০২৬

Google News
রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে ধীরে ধীরে ঢাকা ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। ট্রেনযাত্রায় টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি বেড়েছে। ভিড় থাকলেও বেশিরভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। তবে সড়কপথে ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় যানজট ও ধীরগতির কারণে ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তবে শৃঙ্খলার মধ্যেই যাত্রীরা ট্রেনে উঠছেন। স্টেশনে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি যাত্রীর টিকিট যাচাই করে তবেই প্ল্যাটফর্মে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, ফলে বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমে এসেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেন ছাড়ায় যাত্রীদের মুখে স্বস্তির হাসিও দেখা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী যাত্রী রিয়াসাত জানান, অনলাইনে টিকিট কেটে এবার বেশ স্বস্তিতেই যাত্রা শুরু করতে পেরেছেন। স্টেশনেও তেমন কোনো বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। শায়েস্তাগঞ্জের যাত্রী আজিজুল হকও বলেন, অনলাইনে টিকিট পেতে সমস্যা হয়নি এবং যাত্রা এখন পর্যন্ত ভালোই লাগছে।

অন্যদিকে সিলেটগামী যাত্রী মো. বিল্লাল জানান, এসি কোচের টিকিট না পেলেও শোভন চেয়ারের টিকিট কেটে যাত্রা করছেন। তবে সার্বিকভাবে কোনো বড় ধরনের ভোগান্তি নেই। অনেক যাত্রী অনলাইনে টিকিট না পেলেও স্টেশন থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করে যাত্রা করছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাজমুল হক বলেন, অনলাইনে একাধিকবার চেষ্টা করেও টিকিট পাননি। পরে স্টেশনে এসে স্ট্যান্ডিং টিকিট কিনেছেন। তিনি জানান, টিকিটের দামও স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আগেভাগে স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করতে উৎসাহিত করছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত ২০ জোড়া ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে নীলসাগর এক্সপ্রেস আধা ঘণ্টা বিলম্বিত হলেও বাকি ট্রেনগুলো সময়মতো ছেড়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে সড়কপথে কিছু এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়া, কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। একই সঙ্গে ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুর এবং ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ও কাঁচপুর এলাকায়ও যানজট দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের ১৭ জেলার মানুষ চন্দ্রা হয়ে নিজ নিজ জেলায় যাতায়াত করেন। কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় ৩০০ শিল্পকারখানা থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ছুটি ঘোষণার পর শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার চাপ বাড়ে, ফলে চন্দ্রা এলাকায় প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীচাপ বাড়ছে। তবে টার্মিনালে সব বাস একসঙ্গে রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পর্যায়ক্রমে বাস প্রবেশ ও বের করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। টার্মিনালে মোবাইল কোর্ট, ভিজিল্যান্স টিম এবং পুলিশের কন্ট্রোল রুম কাজ করছে। কোনো যাত্রী অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের