রাজধানীতে ফেল ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

রোববার,

০২ আগস্ট ২০২৬,

১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

রোববার,

০২ আগস্ট ২০২৬,

১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

যুক্ত হতে পারে বেসরকারি খাত

রাজধানীতে ফেল ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:১৩, ২ আগস্ট ২০২৬

Google News
রাজধানীতে ফেল ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীপথে আবারও যাত্রীবাহী ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে নদীদূষণ, নাব্যতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং যাত্রী আকর্ষণের মতো বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি আরও বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ঢাকার চারপাশের নদীপথে যাত্রীবান্ধব নৌপরিবহন চালুর পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক ফলোআপ বৈঠক শেষে তিনি এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোকে শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, পর্যটনবান্ধব জলপথ হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে এমন একটি রুট বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে, যেখানে গাবতলী থেকে যাত্রা শুরু করে আশুলিয়া, টঙ্গি, নারায়ণগঞ্জ, সদরঘাট ও বসিলা ঘুরে আবার গাবতলীতে ফেরা যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা নদীদূষণ। সরকারের জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১টি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৬টি এবং ঢাকা ওয়াসার ৬৬টি পয়েন্ট থেকে সরাসরি নদীতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানার প্রায় ১৫০টি পয়েন্ট থেকেও দূষিত বর্জ্য নদীতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ৪২৪টি স্থানে সরাসরি বর্জ্য নদীতে পড়ছে। এসব উৎস বন্ধ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পরিকল্পনা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে নদীর পরিবেশ এমন যে অনেক জায়গায় দুর্গন্ধ ও আবর্জনার কারণে মানুষ নৌপথে ভ্রমণে আগ্রহী হয় না। নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ করে মনোরম পরিবেশ তৈরি করা গেলে মানুষ যাতায়াতের পাশাপাশি বিনোদনের জন্যও ওয়াটার বাস ব্যবহার করবে বলে সরকার আশা করছে।

তিনি জানান, শুষ্ক মৌসুমে কোথাও কোথাও নাব্যতা সংকট দেখা দিলেও বর্ষাকালে তা তুলনামূলক কম থাকে। অতীতে যমুনা থেকে পানি এনে বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও বালু নদীতে প্রবাহ ধরে রাখার জন্য একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছিল, তবে সেটি কার্যকর হয়নি। আপাতত বিদ্যমান পরিস্থিতির মধ্যেই সেবা চালুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, এর আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এই সেবা পরিচালনা করলেও গত ১০ বছরে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এবার কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ সেবা পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। তাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

লোকসানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আগের সেবায় পর্যাপ্তসংখ্যক ওয়াটার বাস ছিল না। একটি বাস ছাড়তে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। আবার একই গন্তব্যে সড়কপথে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব হলেও নদীপথে সময় লাগত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। ফলে যাত্রীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলতেন। তবে নিয়মিত বিরতিতে পর্যাপ্তসংখ্যক ওয়াটার বাস চালানো গেলে যাত্রী বাড়তে পারে। যদিও এতে পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, হাতিরঝিলে ওয়াটার বাস সফলভাবে পরিচালিত হলেও সেখানে দূরত্ব কম, যাত্রীর চাপ বেশি এবং চলাচলে তেমন কোনো বাধা নেই। কিন্তু ঢাকার চারপাশের দীর্ঘ নদীপথে একই মডেল পুরোপুরি কার্যকর হবে না। তাই যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পর্যটনকেও গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে কয়েকটি সেতুও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে টঙ্গির রেলসেতুর নিচ দিয়ে ওয়াটার বাস চলাচলের পর্যাপ্ত উচ্চতা নেই। সড়ক সেতুর উচ্চতা বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও রেলসেতু উঁচু করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই ওই স্থানে যাত্রীদের এক পাশ থেকে নেমে সেতু পার হয়ে অপর পাশে অপেক্ষমাণ ওয়াটার বাসে ওঠার বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, এখনো এ প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। আপাতত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজ নিজ দায়িত্বের আওতায় প্রয়োজনীয় কাজ করবে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হবে।

তিনি জানান, বিভিন্ন দপ্তরকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে আবার বৈঠক হবে। তখন বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে ঢাকার চারপাশের নদীপথে আধুনিক ও আকর্ষণীয় ওয়াটার বাস সেবা চালু করা।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের