বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে যখনই নতুন কোনো নাম উঁকি দেয়, তাকে ঘিরে তৈরি হয় কৌতূহলের এক বিশাল বলয়। সেই নাম যদি হয় দেশের অন্যতম বড়ো রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য, তবে সেই কৌতূহল রূপ নেয় টানটান উত্তেজনায়। সম্প্রতি রাজনৈতিক পাড়ায় তেমনই এক বহুল আলোচিত নাম— জাইমা রহমান। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা। তবে তার এই পরিচয় ছাপিয়ে বড়ো প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—তিনি কি কেবলই পারিবারিক উত্তরাধিকার, নাকি আগামীর এক নতুন নেতৃত্ব?
রহস্যময়ী নীরবতা ও গুঞ্জনের নেপথ্যে
বাস্তবতা হলো, জাইমা রহমান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতির মাঠে নেই। তাকে কোনো মিছিলের স্লোগানে দেখা যায় না, নেই কোনো দলীয় পদেও। এমনকি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে কোনো রাজনৈতিক ভাষণও তিনি দেননি। তিনি আপাতত একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করছেন। কিন্তু তবুও কেন তাকে নিয়ে এত জল্পনা?
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ: ১. শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হিসেবে তার পারিবারিক আভিজাত্য। ২. তারেক রহমানের উত্তরসূরি হিসেবে তার প্রতি দলের কর্মীদের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। ৩. বাংলাদেশের রাজনীতিতে বংশপরম্পরায় নেতৃত্ব আসার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি।
বদলানো সময় ও আগামীর বাস্তবতা
রাজনীতি এখন আর কেবল পারিবারিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নেই। দিন বদলেছে, বদলেছে মানুষের চাওয়ার ধরন। আজকের তরুণ প্রজন্ম ‘কার মেয়ে’ বা ‘কার নাতনি’—তা দেখার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় নেতার নিজস্ব চিন্তা ও কর্মদক্ষতার ওপর। মানুষ এখন জানতে চায়, সংকটে একজন নেতার অবস্থান কী? সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তার পরিকল্পনা কী?
জাইমা রহমানের জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জ হবে এই নতুন বাস্তবতাকে জয় করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে প্রতিটি পদক্ষেপ হয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও ব্যবচ্ছেদ। ফলে রাজনীতিতে এলে তাকে নিছক পারিবারিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
চড়াই-উতরাইয়ের হিসাব-নিকাশ
যদি ভবিষ্যতে জাইমা রহমান রাজনীতিতে পা রাখেন, তবে তার সামনে থাকবে কণ্টকাকীর্ণ পথ। প্রথমত, তাকে নিজের একটি স্বতন্ত্র ‘আইডেন্টিটি’ বা পরিচয় তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশের ড্রয়িং রুম পলিটিক্স নয়, বরং বাংলাদেশের মাঠের কঠিন রাজনীতির ধুলোবালির সঙ্গে সখ্য গড়তে হবে। আর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হওয়ার কারণে সমালোচনা ও আক্রমণও হবে সাধারণের চেয়ে বহুগুণ বেশি।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। যদি তিনি আধুনিক শিক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের স্পন্দন বোঝার ক্ষমতা নিয়ে রাজনীতিতে আসেন, তবে তিনি হয়ে উঠতে পারেন বিএনপির এক নতুন ‘তুরুপের তাস’।
শেষ কথা
জাইমা রহমানকে নিয়ে চলমান সব আলোচনাই এখন পর্যন্ত অনুমাননির্ভর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব ‘উপহার’ হিসেবে পাওয়ার দিন শেষ হয়েছে; এখন তা অর্জন করে নিতে হয় কাজ এবং মানুষের বিশ্বাস দিয়ে। জাইমা রহমান সেই পথে হাঁটবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তিনি যদি কখনো ময়দানে নামেন, তবে সাধারণ মানুষই নির্ধারণ করবে—তিনি কেবল একটি পরিচিত নাম হয়ে থাকবেন, নাকি সময়ের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা একজন প্রকৃত নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

