মধ্যপ্রাচ্যে এক বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় তোড়জোড় শুরু করেছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকা ‘বিশাল রণতরী বহর’ বা আর্মাডার পাশাপাশি এখন অঞ্চলজুড়ে থাড ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কোনো মূল্যে তারা মাতৃভূমি রক্ষায় প্রস্তুত। আক্রান্ত হলে অচিন্তনীয় হামলার হুমকিও দিয়ে রেখেছে তেহরান।
সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন স্থানে রহস্যময় বিস্ফোরণের পর দেশটির নৌ-কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে রোববার সেই নীরবতা ভেঙে তাংসিরি এক বিবৃতিতে বলেন, শত্রুরা মিডিয়া যুদ্ধের মাধ্যমে হতাশা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমাদের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
যদিও তার সাম্প্রতিক কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, বন্দর আব্বাস ও আহভাজে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হলেও ইরান একে গ্যাস লিক দুর্ঘটনা বলে দাবি করেছে।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র ও মার্কিন সেনাদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পাঠাচ্ছে।
জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও কাতারে অত্যাধুনিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড ও প্যাট্রিয়ট বসানো হয়েছে। থাড সিস্টেম বায়ুমণ্ডলের বাইরে ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতে সক্ষম, যা ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
জর্ডানে তিন স্কোয়াড্রন এফ ফিটটিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পর্তুগাল ও স্পেনের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এফ থার্টি ভাইভ এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান রাখা হয়েছে, যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানো যায়। পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরসহ ইরানের স্ট্রাইক রেঞ্জের মধ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার অবস্থান করছে।
মার্কিন হুমকি ও গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরানের বর্তমান অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কাঠামোর একটি বড় অংশ গত বছরের যুদ্ধের পরও অক্ষত রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হিব্রু ভাষায় এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকানদের জানা উচিত, আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করলে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে। আমরা হামলাকারীকে কঠোর আঘাত করব।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও মার্কিন হুমকির মুখে পুরো সরকার ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এখন ‘এককাট্টা’। তাদের বার্তা স্পষ্ট- ‘আমরা এখন সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে, তবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এখনও মার্কিন স্বার্থের ‘মারাত্মক ক্ষতি’ করার সক্ষমতা রাখে। তেহরান ইতোমধ্যে মিত্র দেশগুলোকে ইঙ্গিত দিয়েছে, এবারের প্রতিশোধ গত বছরের মতো সীমিত হবে না, বরং তা হবে আরও অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক।
এতসব সামরিক প্রস্তুতির মাঝেও কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষীণ আশা জিইয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরান আলোচনার বিষয়ে গুরুতরভাবে আগ্রহী। তবে পেন্টাগনের ব্যাপক প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, আলোচনার টেবিলে সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

