ইরান সম্প্রতি তেহরানে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে, যা ইরানি ও ইউরোপীয় সরকারের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এটি এসেছে এমন এক সময়ে যখন ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এরপরই তেহরানে থাকা সব ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা ইইউ’র ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ এবং এটি ইরানের প্রতি “অপমান” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেই সিদ্ধান্তের জবাবে তেহরানে নিযুক্ত ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের তলব করে ইরান তাদের কাছে কঠিন হুঁশিয়ারি এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা জানাচ্ছে।
ইউরোপের এই পদক্ষেপের এক দিনে আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ঘোষণা করেছেন যে তারা ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে বলা হচ্ছে।
এই কূটনৈতিক কপ্তিগত উত্তেজনার মাঝে পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চায়, এবং তুরস্ক, মিশর ও কাতার যৌথভাবে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সাক্ষাৎ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে যেখানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি অংশ নিতে পারে। উপরন্তু মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী, যদিও সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত নয়।
এই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এমন এক সময়ে চলছে যখন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা জানাচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ শুরু করে তাহলে তা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হবে—এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
সূত্র: এপি নিউজ
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

