শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি (রোববার) জাতিসংঘে চিঠি পাঠাবে অন্তর্বর্তী সরকার। সেজন্য ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক থেকে লাইভে এসে তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘সাধারণ জনগণকে আমরা আহ্বান জানাই, ৮ তারিখ (রোববার) পর্যন্ত আপনারা ধৈর্য ধারণ করুন। যেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বিবৃতি দেয়া হয়েছে, ৮ তারিখে তারা জাতিসংঘের কাছে চিঠি প্রেরণ করবে। তার আগে এ চিঠিতে তারা কী লিখেছে, সেটা আমাদের দেখাতে হবে। এটা না দেখিয়ে কোনো ধরনের ছলচাতুরী মার্কা চিঠি প্রেরণ করা যাবে না। এটা অবশ্যই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গতকাল থেকে আমরা শহিদ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জাতিসংঘে একটি চিঠি প্রেরণের জন্য আহ্বান জানিয়ে তার বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলাম। ওসমান হাদির স্ত্রী, তার সন্তান এবং আমরা— পুরোটা সময় ধরেই কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের এ দাবিটা আদায় করা যায় সেটা নিয়ে আমরা আমাদের মতো করে এগোচ্ছিলাম। সরকার থেকে আমোদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের কিছু সদস্য, তারা অতর্কিত হামলা করেছে। আমাদের ভাইদের রক্তাক্ত করেছে। আমরা ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাই। যারা এ আক্রমণের সঙ্গে জড়িত রয়েছে, তাদের অতিদ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার জন্য আহ্বান জানাই। অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের কোনো নেমপ্লেট ছিল না, প্রত্যেকে মাস্ক পড়া ছিল। এ ধরনের হামলা তো আমরা দেখেছি ফ্যাসিবাদী হাসিনার আমলে। তাহলে কি যমুনা পাহারা দিচ্ছে হাসিনার পুলিশ লীগ? সেটা আমরা জানতে চাই।’
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘এখন আমরা এ প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, আমরা তো সুনির্দিষ্ট একটা দাবি নিয়ে ওখানে গিয়েছিলাম, জাতিসংঘের অধীনে যেন শহিদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারটা করা হয়। এ তদন্তটা নিশ্চিত করা হয়। তাহলে কারা শহিদ ওসমান হাদির তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে দিতে চায়নি, এটা আজকে স্পষ্ট হয়ে গেছে। আমরা মনে করছি উপদেষ্টা পরিষদের একটা অংশ শরিফ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে জড়িত।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহিদ ওসমান হাদি হত্যার যে তদন্ত সেটা জাতিসংঘের অধীনেই হতে হবে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছিল যে, জাতিসংঘের অধীনেই এটার তদন্ত হবে। কিন্তু তারা কোনো ধরনের সময়সীমা বেধে দেয়নি। তারা আশ্বস্ত করেছিল তারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই হাদি হত্যার বিচার করবে। কিন্তু তারা সেটা করতে পারেনি।’
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

