আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৯ সালের এদিনে বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারানো ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদের স্মরণে রাজধানী ঢাকার বনানী সামরিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা ও সামরিক প্রধানরা।
রাজধানী ঢাকার বনানী সামরিক কবরস্থানে পালিত হয় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’। দিনটির শুরুতে সকাল ১০টায় পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দিনটিকে জাতীয়ভাবে শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান সরকার।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর, বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা সদস্যদের কবর জিয়ারত করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। দুপুর পৌনে ১টার দিকে ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কবরস্থানে প্রবেশ করেন। তিনি শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত শেষে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় ডা. শফিকুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডকে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। জামায়াত আমির একটি জোরালো রাজনৈতিক মন্তব্য করে বলেন, বিএনপি যদি বিডিআর হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তবে এটি হবে তাদের চরম ব্যর্থতা।
তিনি কোনো প্রকার প্রতিহিংসা নয়, বরং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে জাতির দায়মোচনের দাবি জানান।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে ঘটা এই বিদ্রোহে বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এই ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত ষড়যন্ত্র উন্মোচন না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আজও বিতর্ক ও ক্ষোভ বিরাজমান।
জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে আজ সারাদেশের মানুষের দাবি ছিল একটাই, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত এবং নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের বিচার নিশ্চিত করা। শহীদ পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘশ্বাস এবং বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দিনটি অত্যন্ত শোকাবহ পরিবেশে পালিত হয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

