রোববার,

১৬ মে ২০২১

১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

যমুনা ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৫২, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০

আপডেট: ০৬:৪৩, ৬ জানুয়ারি ২০২১

যমুনা ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তা গ্রেফতার

জালিয়াতি করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের বগুড়া জেলা শাখার ব্যবস্থাপকসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলা করা হয়েছে। 

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে এ মামলা করেন। বিকালে উপপরিচালক এজাহারভুক্ত তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। 

গ্রেফতার তিন কর্মকর্তা হলেন—ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা রেজানুল হক প্রিন্স ও রবিউল ইসলাম রবি এবং কর্মকর্তা আবদুর রউফ। এর আগে অপর মামলায় সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সওগত আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে নতুন মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শহরের বড়গোলা এলাকায় যমুনা ব্যাংক লিমিটেড বগুড়া শাখার ব্যবস্থাপক (সাময়িক বরখাস্ত) সওগত আরমান ২০১৮ সালের ৮ মে থেকে এ বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় ১৫ কোটি ৮৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা মূল্যমানের টেন্ডার ডকুমেন্ট ও পে-অর্ডার জাল করেন।

এসব ডকুমেন্ট বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারি কাজে ব্যবহার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছে মেসার্স আমেনা বেগম, টুম্পা এন্টারপ্রাইজ ও শিমু কনস্ট্রাকশনসহ অন্তত একশ’ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এ ধরনের জাল ব্যাংক ডকুমেন্ট দেওয়া হয়েছে।

এর আগে যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের একই শাখা থেকে ১২ কোটি ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যবস্থাপক ও এভিপি সওগত আরমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম মামলা করেন। এ মামলায় আদালত সওগত আরমান, তার স্ত্রী এবং এক প্রেমিকার ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেন। 

দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, এ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ১৫ কোটি ৮৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা মূল্যমানের টেন্ডার ডকুমেন্ট ও পে-অর্ডার জাল করার তথ্য মেলে। সাবেক ব্যবস্থাপক সওগত আরমান অপর তিন কর্মকর্তা রেজানুল হক, রবিউল ইসলাম এবং আবদুর রউফ পরস্পর যোগসাজশে টাকাগুলো আত্মসাৎ করেন।