বুধবার,

১৯ মে ২০২১

ব্রণ তাড়াতে ঘরোয়া সমাধান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২১, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

আপডেট: ১১:৩০, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

ব্রণ তাড়াতে ঘরোয়া সমাধান

প্রতীকী ছবি

ব্রণশব্দটির সাথে আমরা কম বেশি সকলেই পরিচিত। এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন যাদের কখনো ব্রণের অভিজ্ঞতা হয়নি। অনেকেই বংশগত অথবা হরমোনজনিত সমস্যাকেই ব্রণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। ব্রণ খুব মারাত্মক জটিল সমস্যা না হলেও অত্যাধিক ব্রণ ত্বকের বাহ্যিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান করে দেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে ব্রণের সমস্যা খুব অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়। এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া অন্য উপায় নেই। তবে অতিরিক্ত ওষুধ এবং রাসায়নিক ক্রিমের ব্যবহারে ত্বকের অনেক বাহ্যিক ক্ষতি হতে পারে। ফলে ব্রণের সমস্যার সমাধান প্রথমেই ঘর থেকে শুরু হওয়া উচিত। বিভিন্ন ঘরোয়া ব্যবহার করে ব্রণ কম থাকতেই এর প্রতিকারের চেষ্টা করতে হবে।

মুখে সরিষার ব্যবহার: ত্বকের যত্নে যে ভেষজ উদ্ভিদ দারুণ কাজ করে, তা হলো সরিষা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরিষায় রয়েছে স্যালিসাইলিক এসিড। এই এসিড বিভিন্ন সংক্রামক থেকে ত্বককে রক্ষা করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে। তাই একটি পাত্রে টেবিল চামচের এক-চতুর্থাংশ সরিষা গুঁড়ো নিয়ে তাতে একই পরিমাণ মধু মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে ব্রণের চারপাশে ভালোভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। এরপর ১৫-২০ মিনিট মিশ্রণটি শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করে হালকা ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

চন্দন কাঠের গুঁড়ো: চন্দন কাঠ বা এর গুঁড়োর সাথে গোলাপজল মিশিয়ে এক ধরনের হালকা পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এর সাথে দুই ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নেয়া যেতে পারে। ঘরে যদি গোলাপ জল না থাকে, সেক্ষেত্রে গোলাপজলের পরিবর্তে মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। মিশ্রণটি ব্রণের চারপাশে যত্ন সহকারে লাগিয়ে নিতে হবে। কিছু সময় পর মিশ্রণটি শুকনো হয়ে একধরনের আবরণ তৈরি করবে এবং মুখের ত্বক কিছুটা টেনে আসবে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। হালকা ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে নিলেই পুরো মুখে একধরনের সতেজ অনুভূতি ফিরে আসবে। রাতে ঘুমানোর আগে মুখে মিশ্রণটি লাগিয়ে নিলে বেশ ভালো উপকার পাওয়া যায়।

আপেল মধুর মিশ্রণ: অনেক আগে থেকেই প্রাকৃতিক উপায়ে ব্রণ সমস্যার সমাধানে আপেলের রসের ব্যবহার হয়ে আসছে পৃথিবীর সর্বত্র। প্রথমে আপেল ব্লেন্ড করে অথবা অন্য কোনো উপায়ে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এরপর পেস্টের সাথে - ফোঁটা মধু মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। আপেলের রস মুখের বাহ্যিক পুষ্টি প্রদান করতে সক্ষম। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে আরো সজীব। সপ্তাহে নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ভালো উপকার পাওয়া সম্ভব, যা কিছুদিনের মধ্যেই চোখে পড়তে বাধ্য।

নিমপাতা-গোলাপজল: নিমপাতা খুবই ভালো অ্যান্টিসেপটিক আর গোলাপজল ত্বক স্নিগ্ধ আর সতেজ রাখে। পাতাসমেত গোটা পাঁচেক নিমের ডাল ভেঙে নিন। পাতাগুলো ধুয়ে পানিতে মিনিট দুয়েক ফোটান। তারপর পানি থেকে পাতা তুলে মিক্সিতে বা শিলে বেটে নিন। এবার পাতা বাটায় দুচাচামচ পরিমাণ গোলাপজল মেশান। এই মিশ্রণটা ব্রণের উপরে লাগিয়ে শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণ দ্রুত শুকাবে, ব্যথাও কমবে।

কমলালেবুর খোসা: প্রথমে কমলার খোসা রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে গুঁড়ো তৈরি করে নিতে হবে। বাড়িতে মসুর ডাল আর চাল থাকলে সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন তা পিষে অথবা ব্লেন্ড করে নিতে হবে। কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো, ডাল চালের মিশ্রনের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এই পেস্টের সাথে চাইলে মধু, চন্দনের গুঁড়ো, কাচা হলুদ বা দুধের ব্যবহার করা যেতে পারে। এই মিশ্রণটি নিয়মিত ব্যবহারের ফলে অধিকাংশ সময় ব্রণ একেবারে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং ব্রণের দাগও ধীরে ধীরে মুছে যাবে। এই মিশ্রণটির আয়ুর্বেদিক গুণাবলীর কারণে ত্বক আরো বেশি মসৃণ এবং উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

লেবু আর পানি: লেবুর ভিটামিন সি ব্রণ কমাতে দারুণ ভালো কাজ করে। দুটো পাতিলেবুর রস বের করে নিন। এই রসে দুচামচ পানি মেশান। মিশ্রণে তুলা ভিজিয়ে ব্রণের উপরে লাগিয়ে দিন। খুব দ্রুত ব্রণ শুকিয়ে যাবে। তবে সেনসিটিভ ত্বক হলে লেবুর রস এড়িয়ে চলাই ভালো।

রসুনের পেস্ট: রসুনে আছে অ্যান্টিসেপটিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা ব্রণ দূর করতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। রসুন দেহের ভেতরে এবং বাইরে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধে বেশ উপকারী। রসুনের কয়েকটি টুকরো নিয়ে তা পানির সাথে মিশিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে। এরপর মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে আধঘন্টা মতো রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।

 

সম্পর্কিত বিষয়: