নির্বাচনী প্রচারণায় আক্রমণের নতুন হাতিয়ার এআই দিয়ে বানানো ভিডিও, কী করছে ইসি?

মঙ্গলবার,

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২১ মাঘ ১৪৩২

মঙ্গলবার,

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২১ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

নির্বাচনী প্রচারণায় আক্রমণের নতুন হাতিয়ার এআই দিয়ে বানানো ভিডিও, কী করছে ইসি?

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:১২, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১২:১৪, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
নির্বাচনী প্রচারণায় আক্রমণের নতুন হাতিয়ার এআই দিয়ে বানানো ভিডিও, কী করছে ইসি?

আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনী প্রচারণায় এবার চোখে পড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যাপক ব্যবহার। এআই দিয়ে নির্মিত এসব কন্টেন্টে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে যেমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তেমনি করা হচ্ছে প্রতিপক্ষকে আক্রমণও।

এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার শুরুর পর, বাংলাদেশে আয়োজিত হতে যাওয়া প্রথম নির্বাচনে এটি যে বড় একটি ফ্যাক্টর হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বাচনী আচরণবিধিতেও এ সংক্রান্ত নীতমালা অন্তর্ভুক্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন।

তা সত্ত্বেও নির্বাচন এগিয়ে আসার সাথে সাথে এআই দিয়ে তৈরি করা আক্রমণাত্মক ভিডিওতে সামাজিক মাধ্যম সয়লাবের যে পরিস্থিতি বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের তা সামাল দেওয়ার সামর্থ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

একইসাথে জনসাধারণের মধ্যে এবিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণে সচেতনতা না থাকায় এসব ভিডিও দিয়ে বিভ্রান্ত এবং প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন পর্বেক্ষকরা, প্রকাশ করছেন উদ্বেগও।

নয়টি আলাদা ছবি জোড়া দিয়ে একটি ছবি বানানো হয়েছে। সবগুলো ছবিতেই কম্পিউটার মনিটর দেখা যাচ্ছে। কয়েকজন মানুষও আছে। প্রতীকী ছবিছবির উৎস,Getty Images

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান সাহায্য পাঠাতে জনসাধারণের কাছে বিকাশ নম্বর চাইছেন- এআই দিয়ে তৈরি করা এমন একটি ভিডিও তাদের মেয়ে জাইমা রহমানের নামে খোলা ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে কয়েক সপ্তাহ আগে পোস্ট করা হয়।

সেই ভিডিওটি কেবল ফেসবুকেই দেখেছিল দুই মিলিয়ন বা ২০ লাখ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী। কেবল এই ভিডিওই না, এভাবে তৈরি করা এমন অসংখ্য ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। হচ্ছে লাখ লাখ ভিউ।

কারণ এই নির্বাচনী মৌসুমে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা কারও চোখে ভিডিওগুলো না আসা বেশ কঠিন। নির্বাচনের প্রচারণার কৌশল হিসেবেই খুব পরিকল্পিতভাবে এসব কন্টেন্ট নির্মাণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পহেলা জানুয়ারি থেকে ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫ দিনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ৮০০টির বেশি এআই নির্মিত ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব।

এতে দেখা গেছে, সরকারি ব্যক্তিত্বসহ নানা বয়স, শ্রেণি ও পেশার মানুষদের নিয়ে নির্মিত ভিডিওগুলোর বেশিরভাগই জামায়াতকে সমর্থন করে বানানো হয়েছে।

নির্বাচনী আচরবিধির ১৬(ছ) ধারায় বলা হয়েছে, "রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করিবার জন্য কিংবা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তির চরিত্র হনন কিংবা সুনাম নষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে, সাধারণভাবে বা সম্পাদন করিয়া কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল বা কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কোনো আধেয় তৈরি প্রকাশ, প্রচার ও শেয়ার করিতে পারিবেন না"।

ফলে আচরণবিধি অনুযায়ী এআই ভিডিও তৈরি করে প্রচার-প্রচারণায় কোনো বাধাও নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, প্রচারণার জন্য বানানো এআই ভিডিও কেবল দলগুলোকে সমর্থনই না, করছে আক্রমণও – যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।

ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে জানান, এআই নির্মিত ভিডিওগুলোর মধ্যে নিখাদ প্রচারণামূলক থেকে শুরু করে বিদ্বেষমূলক, আক্রমণাত্মক, এমনকি ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিক কন্টেন্টও আছে।

"যে যার উদ্দেশ্য থেকে এই কন্টেন্টগুলো তৈরি করছে। কেউ নির্বাচনের পক্ষে তৈরি করছে, কেউ বিপক্ষে তৈরি করছে। কেউ দলের পক্ষে তৈরি করছে, কেউ বিপক্ষে তৈরি করছে", বলছিলেন তিনি।

আর কোনো ধরনের স্বচ্ছতা ছাড়াই এলগরিদমও এগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়ায় এসব ভিডিওতে সয়লাব সামাজিক মাধ্যম।

"এটা প্রযুক্তির কারণে সহজ হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ব্যাপক হয়েছে," বলেন মিরাজ আহমেদ চৌধুরী।

নির্বাচন কমিশনের আইন শৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে কাজ করছে কর্মকর্তারা

ছবির ক্যাপশান,নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল স্থাপন করা হয়েছে

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের