ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে আইসিসির সাথে বাংলাদেশের বিরোধ এখন নিছক সতর্কবার্তার পর্যায় পেরিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির রূপ নিয়েছে। ২৪ জানুয়ারি বিশ্বকাপের মূল তালিকা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিকল্প দলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সব পথ বাংলাদেশের জন্য বন্ধ হয়ে গেল।
টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়াটা তাৎক্ষণিক ক্ষতি হলেও, এর চেয়েও বড় মাশুল গুনতে হবে ভবিষ্যতের পথে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালের আসরে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল আগের আসরের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে- যা সরাসরি মাঠের লড়াইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছিল। এতে কোনো র্যাঙ্কিংয়ের মারপ্যাঁচ বা কোয়ালিফায়ার খেলার প্রয়োজন ছিল না।
এখন সেই সহজ পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়বে পরবর্তী চক্রগুলোতে। ২০২৬ সালের আসরে অংশ না নেয়ায়, এই টুর্নামেন্টের কোনো ফলাফল বা অবস্থান বাংলাদেশের পরবর্তী আসরের বাছাই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে না।
সাধারণত আইসিসি পরবর্তী বিশ্বকাপের স্লট পূরণে আগের আসরের অবস্থান, আয়োজক দেশ, র্যাঙ্কিং এবং আঞ্চলিক বাছাইপর্বের ওপর নির্ভর করে। একটি আসরে অনুপস্থিত থাকা মানেই পরবর্তী আসরে সরাসরি সুযোগ পাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথটি হারানো।
এর মানে এই নয় যে, বাংলাদেশকে পরবর্তী আসরে অবশ্যই বাছাইপর্ব খেলতে হবে- কারণ আইসিসি পরবর্তী সময়ে নতুন মানদণ্ড প্রকাশ করবে। তবে সেরা দলগুলোর কাতারে টিকে থাকার সবচেয়ে সহজ উপায়টি (টুর্নামেন্টে খেলা ও ভালো অবস্থানে থাকা) এখন বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে গেল।
রাজস্ব বন্ধের ক্ষমতা: আইসিসি কেন শক্তিশালী?
বর্তমানে আলোচনা আর মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে নয়, বরং সুশাসন ও বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা নিয়ে। আইসিসির নিজস্ব সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। আইসিসি যদি মনে করে, কোনো সদস্য দেশ তাদের বাধ্যবাধকতা পালনে গুরুতর ব্যর্থ হয়েছে, তবে তারা সেই দেশের সদস্যপদ স্থগিত করতে পারে।
এই স্থগিতাদেশ কেবল নামমাত্র কোনো শাস্তি নয়; এর ফলে ওই দেশ আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণের অধিকার এবং আইসিসির উদ্বৃত্ত রাজস্বের অংশ পাওয়ার অধিকার হারায়।
রাজস্ব বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তার পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে- তবে এটি সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। শুধু একটি বিরোধের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজস্ব বন্ধ হয় না; এটি তখনই ঘটে যখন বিষয়টি সদস্যপদ স্থগিতের মতো পর্যায়ে পৌঁছায়।
কেন এই চরম পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোকে তাদের কার্যক্রম স্বায়ত্তশাসিতভাবে পরিচালনা করতে হয় এবং নিশ্চিত করতে হয় যাতে সেখানে কোনো বাইরের হস্তক্ষেপ (রাজনৈতিক বা সরকারি) না থাকে।
যখন কোনো ক্রিকেটীয় বিরোধের পেছনে অ-ক্রিকেটীয় বা সরকারি নির্দেশনার ছায়া দেখা যায়, তখন সেটি আর সাধারণ দ্বিমত থাকে না; বরং আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের পর্যায়ে চলে যায়।
মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সবচেয়ে বড় মাশুল দিয়েছে- তারা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে। এখন পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে আইসিসি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে তার ওপর। এটি কি কেবল একটি টুর্নামেন্টে অংশ না নেয়ার ঘটনা হিসেবেই থেকে যাবে, নাকি এটি সদস্যপদ বা ভবিষ্যৎ রাজস্ব প্রাপ্তির মতো স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত করবে- সেটিই এখন দেখার বিষয়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

