বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর শূন্য শতাংশ অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্কের সুবিধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধসহ কয়েকটি বিশেষায়িত ওষুধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ মোট ২০টি দেশ ও অঞ্চল এ সুবিধা পাবে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) ফেডারেল রেজিস্টারে এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। এতে শূন্য শুল্কের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও রয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেটেন্টযুক্ত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা করেন। তবে নতুন নির্দেশনায় নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও উপাদানকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
যেসব ওষুধে শূন্য শুল্ক
নতুন ব্যবস্থার আওতায় শূন্য শতাংশ শুল্কের সুবিধা পাবে নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের বিশেষায়িত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপাদান। এর মধ্যে রয়েছে—
বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ; নিউক্লিয়ার মেডিসিন; প্লাজমা থেকে তৈরি চিকিৎসা পণ্য; বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ; কোষভিত্তিক চিকিৎসা পণ্য; জিন থেরাপি; অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটস (এডিসি); রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল ও নিউক্লিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত চিকিৎসা পণ্য; পশু চিকিৎসায় ব্যবহৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য।
তবে এসব পণ্যের শূন্য শুল্ক সুবিধা পেতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
২০ দেশ ও অঞ্চলের তালিকায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশের পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নোটিশ অনুযায়ী, এসব দেশের বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে শূন্য শতাংশ শুল্কের সুবিধা পাবে।
জেনেরিক ওষুধে শুল্ক নেই
নতুন সিদ্ধান্তে জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানও এই ১০০ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়ছে না। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নোটিশে বলা হয়েছে, বর্তমানে সেকশন ২৩২-এর ফার্মাসিউটিক্যাল শুল্ক জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
এ ছাড়া ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং অন্যান্য অ-বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা নির্দিষ্ট ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ক্ষেত্রেও শূন্য শুল্কের বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের চাপ থাকবে না। তবে সুবিধাটি সব ধরনের ওষুধের জন্য নয়; নির্ধারিত শ্রেণি ও শর্ত পূরণকারী পণ্যের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

