বৃহস্পতিবার,

২৫ জুলাই ২০২৪,

১০ শ্রাবণ ১৪৩১

বৃহস্পতিবার,

২৫ জুলাই ২০২৪,

১০ শ্রাবণ ১৪৩১

Radio Today News

ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম, ফসল ও গবাদিপশুর জন্য ক্ষতিকর

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:২০, ১৪ জুন ২০২৪

আপডেট: ১৩:২৩, ১৪ জুন ২০২৪

Google News
ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম, ফসল ও গবাদিপশুর জন্য ক্ষতিকর

সবুজের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে মানবদেহ ফসল ও গবাদিপশুর জন্য বিষাক্ত উপাদান। চুয়াডাঙ্গায় রাস্তার দুইধারে, ফসলের মাঠের পাশে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম। অথচ এর নাম বা ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানে না সাধারণ মানুষ। ফলে রাস্তার দুইধারে নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠছে মৃত্যুদূত পার্থেনিয়াম। যদিও কৃষি বিভাগের দাবি, এই আগাছা নিধন ও জনসচেতনতায় কাজ করছেন তারা।

হঠাৎ দেখলে যে কারও মনে হবে বড় আকারের ধনিয়াগাছ। চিকন সবুজ পাতার ফাঁকে ছোট ছোট সাদা ফুলে আকর্ষণীয় দেখায় গাছগুলোকে। তবে এই সবুজের মাঝেই যে বিষ লুকিয়ে আছে তা কারোর জানা নেই। বিষাক্ত এই উদ্ভিদের নাম পার্থেনিয়াম।

গেল কয়েক বছরে চুয়াডাঙ্গার রাস্তার পাশে, ফসলের খেত এমনকি বাড়ির অঙ্গিনাতেও জন্মাচ্ছে বিষাক্ত এই গাছ। প্রকৃতির অজানা শত্রু পার্থেনিয়াম গাছটির আয়ুষ্কাল মাত্র তিন থেকে চার মাস। এ আয়ুষ্কালের মধ্যে তিনবার ফুল ও বীজ দেয় গাছটি। ফুল হয় সাধারণত গোলাকার, সাদা এবং পিচ্ছিল।

কোনোরকম যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে পার্থেনিয়াম। প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার বিশেষ সক্ষমতাও রয়েছে এর। বিষাক্ত পার্থেনিয়াম বেশি নজরে পড়ে জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের রাস্তার দুধারে। তবে স্থানীয় কৃষক বা সাধারণ মানুষ কারোরই ধারণা নেই এই গাছের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে।

কৃষক বলেন, এই গাছের জ্বালায় আমরা চাষ করতে পারতেছি না। খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি আমরা। এই গাছের বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। এলাকায় এই গাছ ভরপুর। গরু-ছাগল এ গাছ খায়, এগুলো দ্রুত কেটে ফেলা উচিত।

কৃষিজমিতে পার্থেনিয়াম যেকোনো ধরনের ফসলের প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন কমিয়ে দিতে সক্ষম। এটি সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করে আমের বাগান, আখ, কলা, হলুদ, করলা, শিমের খেতে। এমনকি এই বিষাক্ত গাছ গবাদিপশুর গায়ে লাগলে তীব্র জ্বর, বদহজমসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে গাভী পার্থেনিয়াম খেলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে।

পার্থেনিয়ামকে বিষাক্ত আগাছা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা।

তিনি বলেন, 'কৃষি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অবগত আছে। মানবদেহ এবং পশুর শরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গবেষণা হবে। এটা বিষাক্ত উদ্ভিদ।'

চিকিৎসকরা বলছেন, সাইলেন্ট কিলার খ্যাত বিষাক্ত পার্থেনিয়াম শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছাতে পারে। যা থেকে হতে পারে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ থেকে শুরু করে মরণব্যাধি ক্যান্সারও। বিষাক্ত এই আগাছার বিস্তার রোধে এখনই পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. আওলিয়ার রহমান বলেন, 'পার্থেনিয়াম মানুষের সংস্পর্শে আসলে চর্মরোগ হওয়ার খুব সম্ভাবনা আছে। এটার মারাত্মক ক্ষতিকর অনেক দিক রয়েছে।'

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগ সহকারী অধ্যাপক ফারুক হোসেন বলেন, 'এর পাতা, ফল বা বীজ খুবই বিষাক্ত। টমেটো কিংবা আখখেতে পড়লে এগুলো প্রচুর পরিমাণে জন্মাবে। বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসেও চলে যেতে পারে।'

ফুল ফোটার সময় পার্থেনিয়াম গাছ মানুষ ও গবাদি পশুর জন্য হয়ে ওঠে মারাত্মক ক্ষতিকর।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের