শহীদ মুগ্ধর বাবা ভালো নেই, স্নিগ্ধ চাইলেন দোয়া

রোববার,

২৯ মার্চ ২০২৬,

১৫ চৈত্র ১৪৩২

রোববার,

২৯ মার্চ ২০২৬,

১৫ চৈত্র ১৪৩২

Radio Today News

শহীদ মুগ্ধর বাবা ভালো নেই, স্নিগ্ধ চাইলেন দোয়া

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ২৯ মার্চ ২০২৬

Google News
শহীদ মুগ্ধর বাবা ভালো নেই, স্নিগ্ধ চাইলেন দোয়া

রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় গুলিতে নিহত শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান মেজর হার্ট অ্যাটাক করেছেন। আগামীকাল সোমবার (৩০ মার্চ) তার অপারেশন হবে বলে জানিয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধ।

আজ রোববার (২৯ মার্চ) রাত ৮টায় নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক পোস্টে স্নিগ্ধ লিখেছেন, আমাদের আব্বু হঠাৎ করেই একটি মেজর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। এতদিন পর্যবেক্ষণের পর এনজিওগ্রামে দেখা গেছে, তার হৃদয়ে অসংখ্য ব্লক ধরা পড়েছে। এত বছরেও আব্বুকে কখনো এত বড় অসুস্থতায় পড়তে দেখিনি। ছোটখাটো অসুখ হলে তিনি নিজেই ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে যেতেন, আমাদের জানাতেনও না।

তিনি আরও লেখেন, আমাদের সবার মাঝে আব্বুই সবচেয়ে সাহসী মানুষ। সবসময় আমাদের সাহসী হতে এবং শক্ত থাকতে শিখিয়েছেন। কিন্তু আগামীকাল আব্বুর অপারেশন—এই কথাটা ভাবতেই মনটা ভারী হয়ে যাচ্ছে।

স্নিগ্ধ জানান, মুগ্ধকে হারানোর পর থেকেই তার বাবা ভেতরে ভেতরে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন। “বাইরে থেকে হয়তো বোঝা যেত না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি অনেকটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছিলেন। আর আজ সেই মানুষটিই হার্ট অ্যাটাকের রোগী। আপনারা যে মানবিক মুগ্ধকে দেখেছেন, সে ছিল পুরোপুরি আব্বুরই প্রতিচ্ছবি।”

নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, “আমার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পেছনেও আব্বুর হাতটাই সবচেয়ে বড়। আমার বাবা বিএনপি দলটাকে অনেক বিশ্বাস করেন। বিএনপির ত্যাগী কর্মী বলতে যাদের বোঝায়, আব্বু তাদের মধ্যে একজন। অনেকেই জানেন না, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ৯০-এর দশকে। কিন্তু আমরা ৩ ভাই সবসময় অরাজনৈতিক ছিলাম। তার জন্যই আমার প্রতি কঠোর নির্দেশ ছিল, রাজনীতি করলে এই দল থেকেই করতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “জানি না, এই দলটা একজন শহীদের পিতার বিশ্বাস রাখতে পারবে কি না। ডাক্তার বলেছেন, কালকের অপারেশন করতে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবার জীবনের সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ যা করেন তার মাঝেই কোনো না কোনো কল্যাণ লুকিয়ে থাকে। একজন বীরের বাবার জন্য আপনাদের সবার কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া কামনা করছি।”

উল্লেখ্য, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ছিলেন ২০২৪ সালের বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও শিক্ষার্থী। তিনি ১৮ জুলাই উত্তরার আজমপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

মুগ্ধর জন্ম ঢাকার উত্তরায় এক মুসলিম পরিবারে। তার আদি নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামরাইল। তার বাবার নাম মীর মুস্তাফিজুর রহমান এবং জমজ ভাইয়ের নাম মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।

তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুর আগে ঢাকার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে এমবিএ করছিলেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও কাজ করতেন। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে পানি বিতরণের সময় তার বলা “পানি লাগবে কারও, পানি?”—এই বাক্যটি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের