মঙ্গলবার,

১৮ মে ২০২১

তিন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে পুলিশ সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৫১, ৩ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১৫:১৭, ৩ জানুয়ারি ২০২১

তিন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে পুলিশ সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে এবং আমরা গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে দেশের মানুষের জীবনের শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।

রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারদায় ৩৭তম বিসিএস-পুলিশ ব্যাচের শিক্ষানবীশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি আশা করি, বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবময় ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আজকের নবীন কর্মকর্তারাও দেশের এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পুলিশকে জাতির পিতা ‘স্বাধীন দেশের পুলিশ’ বলেছিলেন উল্লেখ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি জাতির পিতা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ সপ্তাহে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতার দেওয়া ভাষণ থেকে উদ্ধৃত করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন- ‘একটা কথা ভুললে চলবে না তোমাদের, তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ, তোমরা ইংরেজের পুলিশ নও, তোমরা পাকিস্তানি শোষকদের পুলিশ নও, তোমরা জনগণের পুলিশ। তোমাদের কর্তব্য জনগণকে সেবা করা, জনগণকে ভালোবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা’।

“অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ একটা কথা এবং নির্দেশনা জাতির পিতা দিয়ে গেছেন। আজকে নবীন পুলিশ অফিসাররা তোমরা শপথ গ্রহন করেছে, সেই শপথ নিয়েই তোমাদের চলতে হবে। সেই সাথে জাতির পিতার নির্দেশনাগুলোও তোমাদের মেনে চলতে হবে।”

জাতির পিতার চিন্তার বাস্তবায়ন করতে হলে পুলিশ বাহিনীর অনেক দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আশা করি এই দায়িত্বটা পালন তোমরা করবে। তোমরা যে জ্ঞান অর্জন করেছ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করেছ, তোমাদের শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, সততা এবং নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে চলতে হবে। সব সময় দেশের মানুষের পাশে থাকতে হবে। মানুষের সেবা করতে হবে। মানুষের সেবা করাটাই তোমাদের কর্তব্য। সেটা মনে রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, অসহায়, বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেবে এবং জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আরও একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করতে চাই। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘মনে রাখবেন, আপনাদের মানুষ যেন ভয় না করে। আপনাদের যেন মানুষ ভালোবাসে। আপনারা জানেন, অনেক দেশে পুলিশকে মানুষ শ্রদ্ধা করে। আপনারা শ্রদ্ধা অর্জন করতে শিখুন।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চ্যুয়ালি প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপাররা হলেন- ‘বেস্ট শুটার’ ও ‘বেস্ট ফিল্ড পারফর্মার মাে. আবুল হােসাইন, বেস্ট ইন হর্সম্যানশিপ’ মােহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম, ‘বেস্ট একাডেমিক’ ও ‘বেস্ট প্রবেশনার’ এ দুটিতেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন স্নেহাশীষ কুমার দাস। প্যারেডে ১৩ জন নারী অফিসারসহ ৯৭ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মােস্তাফা কামাল উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাে. শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জা, অতিরিক্ত আইজিপিরা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।