পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকার নিস্তব্ধতার মাঝেও বেজে উঠেছে উৎসবের সুর। চীনের ৪২তম অ্যান্টার্কটিক অভিযাত্রী দল আসন্ন বসন্ত উৎসবকে স্বাগত জানাতে তাদের গবেষণা স্টেশনগুলোকে রূপ দিয়েছে প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
চীনের গবেষণা আইসব্রেকার সুয়েলং যার অর্থ ‘স্নো ড্রাগন’ জাহাজে শুরু হয় বড় ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান। প্রদর্শনী হল ও সাধারণ স্থানগুলো ঝকঝকে করে সাজানো হয় লাল লণ্ঠন আর বসন্ত উৎসবের শুভেচ্ছাবার্তা লেখা যুগল পঙক্তিতে।
বসন্ত উৎসবের আগে ঘরদোর পরিষ্কার করা চীনা ঐতিহ্যের দীর্ঘদিনের অংশ।পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক এটি।
জাহাজের রান্নাঘরেও ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। মাছ পরিষ্কার, মাংস কাটা, মিটবল ভাজা, সব মিলিয়ে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৈশভোজের প্রস্তুতি চলে জোরকদমে।
জাহাজের প্রধান শেফ চাং কাংশেং জানান, এ বছরের উদযাপনের জন্য আমরা বিশেষভাবে মাশরুম ও বক চয় সংরক্ষণ করেছি। নিউজিল্যান্ডে শেষবার নোঙর করার সময় থেকেই এগুলো আলাদা করে রাখা হয়েছিল নববর্ষের আগের রাতের খাবারের জন্য।
চোংশান স্টেশনে অভিযাত্রী সদস্যরা একত্র হয়ে লিখেছেন বসন্ত উৎসবের পঙক্তি টাঙিয়েছেন নববর্ষের চিত্রকর্ম। পাশাপাশি চলেছে সিংহনৃত্য ও গান পরিবেশনার মহড়া।
নতুনভাবে যোগাযোগ বেস স্টেশন স্থাপিত ছিংলিং স্টেশনে গবেষকরা ফোনকল, বার্তা আদান-প্রদান এমনকি ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সংযোগ রাখতে পারছেন।হাজারো মাইল দূর থেকেও উৎসবের উষ্ণতা ভাগ করে নিচ্ছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে।
অন্যদিকে গ্রেট ওয়াল স্টেশনে চীনা বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যোগ দেন গবেষণারত কয়েকজন পর্তুগিজ বিজ্ঞানী। সবাই মিলে বানান চীনা ঐতিহ্যবাহী খাবার চিয়াওচি (ডাম্পলিং)।
পর্তুগিজ বিজ্ঞানী টায়না বলেন, চীনের এমন একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসবের অংশ হতে পেরে দারুণ লাগছে।
ঘোড়ার বছরকে স্বাগত জানিয়ে অভিযাত্রী দল সমুদ্রপথ পেরিয়ে পাঠিয়েছে নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তা। উৎসবের আনন্দের মধ্যেও থেমে নেই বৈজ্ঞানিক গবেষণা।
বরফাচ্ছন্ন অ্যান্টার্কটিকার কঠোর পরিবেশে থেকেও বসন্ত উৎসব প্রমাণ করল উৎসব কেবল ভৌগোলিক সীমারেখায় বাঁধা নয়। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর পারিবারিক বন্ধনের শক্তি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত মানুষকে যুক্ত করে রাখে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

