চীনের একদল গবেষক অতি কম বিদ্যুৎ খরচে কাজ করতে সক্ষম বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র ফেরোইলেকট্রিক ট্রানজিস্টর তৈরি করেছেন। নতুন এই উদ্ভাবন সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।
আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে শক্তি দক্ষতা বাড়াতে লজিক চিপের অপারেটিং ভোল্টেজ কমিয়ে প্রায় ০.৭ ভোল্টে নামানো হয়েছে। তবে প্রচলিত নন-ভলাটাইল মেমরি, যেমন ন্যান্ড ফ্ল্যাশ, আগে লেখার কাজ সম্পন্ন করতে ৫ ভোল্ট বা তার বেশি প্রয়োজন হতো।
এই ভোল্টেজের অমিলের কারণে লজিক ও মেমরি ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় করতে অতিরিক্ত সার্কিট যুক্ত করতে হতো, যা বিদ্যুৎ অপচয়, জায়গার অপচয় এবং ডেটা আদান-প্রদানে বাধা সৃষ্টি করত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৬০ থেকে ৯০ শতাংশই ডেটা স্থানান্তরের পেছনে খরচ হয়, গণনার জন্য নয়। ফলে শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কম্পিউটিং ক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সমস্যা সমাধানে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ছিউ ছেংকুয়াংয়ের নেতৃত্বে এবং চীনা বিজ্ঞান একাডেমির একাডেমিশিয়ান পেং লিয়ানমাওয়ের সহযোগিতায়
গবেষক দল ০.৬ ভোল্ট অপারেটিং ভোল্টেজের ন্যানো-গেট ফেরোইলেকট্রিক ট্রানজিস্টর তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ট্রানজিস্টরের গেটের ভৌত আকার মাত্র ১ ন্যানোমিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা এ ধরনের ডিভাইসের মধ্যে সবচেয়ে ছোট।
গবেষণার পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এই ট্রানজিস্টর প্রথমবারের মতো ফেরোইলেকট্রিক মেমরি ও লজিক ট্রানজিস্টরের মধ্যে ভোল্টেজ সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেছে। ফলে একই নিম্ন ভোল্টেজে মেমরি ও
কম্পিউটিং ইউনিটের মধ্যে দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান সম্ভব হবে এবং বিদ্যুৎ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
ভবিষ্যতে বৃহৎ এআই মডেলের ইনফারেন্স, এজ ইন্টেলিজেন্স, পরিধানযোগ্য ডিভাইস এবং ইন্টারনেট অব থিংস প্রযুক্তিতে এই উদ্ভাবনের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে গবেষকরা আশা করছেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

