পৃথিবী থেকে বহু দূরে চীনের মহাকাশ স্টেশনেও ছড়িয়ে পড়েছে বসন্ত উৎসবের আমেজ। শেনচৌ ২১ মিশনের তিন নভোচারী আয়োজন করেছেন চীনা নববর্ষের উৎসব, উপভোগ করেছেন ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ ও নানা সুস্বাদু খাবার।
থিয়ানকং মহাকাশ স্টেশনটি সাজানো হয়েছে লাল লণ্ঠন, শিকার তৈরি ঝালর ও কাগজ-কাটার শিল্পকর্মে। পৃথিবীতে পরিবারের সঙ্গে যে সব রীতি তারা পালন করেন যেমন চিয়াওচি (ডাম্পলিং) খাওয়া বা সৌভাগ্যের প্রতীক খাবার উপভোগ মহাকাশেও সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন তারা।
নববর্ষের আগের রাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল পুনর্মিলনী ভোজ। ভূখণ্ডের সহায়তা দলের যত্নে প্রস্তুত করা হয় বিশেষ মেনু। উ ফেই ও চাং হোংচাং যারা প্রথমবার থিয়ানকংয়ে বসন্ত উৎসব উদযাপন করছেন তাদের জন্য এই অভিজ্ঞতা ছিল আরও বিশেষ।
চাং হোংচাং ‘খুয়াইবান’ ছন্দময় তালি ও গল্প বলার সমন্বয়ে চীনা ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা উপস্থাপন করে উৎসবের মেনু ঘোষণা করেন। মেনুতে ছিল বাঁশকোঁড়লসহ মাংস, ফাইভ-স্পাইস ব্রেইজড বিফ এবং মিষ্টি-নোনতা রোস্ট পোর্ক। প্রতিটি খাবারের মধ্যেই ছিল সমৃদ্ধি, শান্তি ও সৌভাগ্যের প্রতীকী বার্তা।
ডাম্পলিং ছাড়া বসন্ত উৎসব অসম্পূর্ণ।মিশন কমান্ডার চাং লু ঘোষণা করেন, আজ আমাদের বিশেষ পদ মাংস ও ডেলিলি দিয়ে তৈরি ডাম্পলিং। উ ফেই বলেন, বসন্ত উৎসবে আমরা ডাম্পলিং খাই।
চাং হোংচাং যোগ করেন, ‘ঘোড়ার বছরে ডাম্পলিং খেলে আসে সৌভাগ্য ও আশীর্বাদ!’
আগের মিশনের তুলনায় এবার একটি নতুন সংযোজনও রয়েছে মহাকাশের ওভেনে তৈরি তাজা কেক, যা উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর উৎক্ষেপণের পর শেনচৌ ২১ এই মিশন এরইমধ্যে ১০০ দিনেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সব কাজই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহাকাশ সংস্থা।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

