নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারের আগামী ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ নিয়ে আলোচনা করা হয়। জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার জন্য মন্ত্রী ও সচিবদের প্রতি কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে-
১. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখা এবং বাজারদর সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা।
২. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটিয়ে মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।
৩. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: রমজান মাসে বিশেষ করে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে ১৮০ দিনের একটি স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা আগেই তৈরি করা ছিল। সেটি আরও কিছুটা পরিমার্জন করে দ্রুতই জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে, যাতে নতুন সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষ স্পষ্ট ধারণা পেতে পারে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পরবর্তীতে সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে তিনি সচিবদের পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো দ্রুত দৃশ্যমান করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সফর কামনার বিষয়টি বৈঠকে উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় গড়ে ওঠা এই শ্রমবাজারের হারানো ছন্দ ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
যদিও এটি মূলত মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল, তবে সেখানে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। যেহেতু উপদেষ্টারা মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অংশ নন, তাই এটিকে একটি ‘সৌজন্যমূলক ও নীতি-নির্ধারণী’ বৈঠক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী দফতর বণ্টনের পর এটিই ছিল নতুন প্রশাসনের প্রথম সমন্বিত পদক্ষেপ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

