বিমানবাহী রণতরী লিয়াওনিংয়ের নেতৃত্বাধীন চীনা নৌবাহিনীর একটি বহর ৪০ দিনেরও বেশি সময়ব্যাপী দূর-সমুদ্র যুদ্ধ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। সোমবার তারা পূর্ব চীনের শানতোং প্রদেশের ছিংতাওয়ে নিজ ঘাঁটিতে ফিরে আসে।
প্রশিক্ষণ চলাকালে বহরটি দক্ষিণ চীন সাগর ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অভিযান পরিচালনা করে এবং ব্যাপক যুদ্ধ প্রস্তুতি মহড়া চালায়, যা তাদের মিশন পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
বহরটি একাধিক প্রশিক্ষণ এলাকায় কৌশলগত মোতায়েন পরিচালনা, আগাম সতর্কতা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা স্থাপন করে এবং স্থল-সমুদ্র যৌথ যুদ্ধ মহড়া, বিমানবাহী রণতরী-ভিত্তিক যুদ্ধবিমানের কৌশলগত উড্ডয়ন এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানসহ বিভিন্ন মহড়ার আয়োজন করে।
লিয়াওনিং বহর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে একটি উভচর আক্রমণ জাহাজ বহরের সঙ্গে যৌথ মহড়া চালায়, যার মাধ্যমে দূর-সমুদ্র যুদ্ধে উভচর বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা আরও উন্নত করা হয়।
নৌবহরের সদস্য চাং সু বলেন, ‘প্রশিক্ষণের সময়জুড়ে আমাদের বহর বাস্তবসম্মত যুদ্ধ পরিস্থিতি-ভিত্তিক মহড়া পরিচালনা করেছে। দূর-সমুদ্র অভিযানের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে বাস্তব পরিবেশ ও প্রকৃত অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মহড়াগুলোর মধ্যে ছিল আকাশসীমার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও প্রতিরক্ষা, শত্রু জাহাজবিরোধী হামলা, সহায়তা ও আচ্ছাদন অভিযান, দূর-সমুদ্রে সমন্বিত উদ্ধার কার্যক্রম এবং সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া।
পাশাপাশি দিন ও রাত উভয় সময়েই জাহাজ ও বিমানসমূহের আক্রমণ ও প্রতিরক্ষামূলক সংঘর্ষের একাধিক পর্ব পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে মূল যুদ্ধ মডিউলগুলোর প্রশিক্ষণ আরও গভীর ও পরিশীলিত করা যায়। এসব পদক্ষেপ বিমানবাহী রণতরী বহরের সমন্বিত দূর-সমুদ্র যুদ্ধ সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে যাচাই করেছে।‘
প্রশিক্ষণ চলাকালে জাপানি জাহাজ ও বিমান বারবার চীনা বহরের নিকটবর্তী এলাকায় অনুসরণ, নজরদারি এবং উসকানিমূলক কৌশল প্রয়োগ করে। চীনা বহর উচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে জাপানের এসব বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের প্রতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাড়া দিয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

