পাইলটদের ডোপ টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। কর্মীদের কাছে পাঠানো এয়ারলাইন্সটির একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি অনুযায়ী, এই ডোপ টেস্ট আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) থেকেই শুরু হবে এবং এটি সব পাইলটের জন্য বাধ্যতামূলক।
গত সপ্তাহে ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের সময় মাঝ আকাশে তীব্র ঝাঁকুনির কবলে পড়ার ঘটনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই ফ্লাইটের প্রধান পাইলট সুদীপ ভাসিস্তা পরপর দুটি ডোপ টেস্টে অকৃতকার্য হয়েছেন। তার রক্তে মারিজুয়ানা সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কর্মীদের কাছে পাঠানো এয়ার ইন্ডিয়ার চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনারা জানেন যে, এয়ার ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্বারা নির্ধারিত সমস্ত নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা সম্পূর্ণরূপে মেনে চলে, যা ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য প্রধান বিমান চলাচল বিচারব্যবস্থায় প্রচলিত নিয়মের মতোই।
তারপরও আমরা এখন মনে করি, আরো এগিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সেই অনুযায়ী, আমরা প্রচলিত নিয়মের অধীনে অনুমোদিত নয়, এমন কোনো পদার্থ বা ওষুধের উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য সব গ্রুপ পাইলটের একটি পূর্ণাঙ্গ স্ক্রিনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, গুরুগ্রাম একাডেমিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ব্রিফিং সেন্টার ও অফিসগুলোতে ফ্লাইট-পরবর্তী সময়ে এই পরীক্ষা চালানো হবে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়েও নিরাপত্তা ও পেশাদারির শীর্ষ মান ধরে রাখাই আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এটি মূলত আমাদের যাত্রী, অংশীজন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে আমাদের দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করে।’
এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, ‘কয়েক দশক ধরে এয়ার ইন্ডিয়া ভারতীয় বিমান চলাচলের পতাকাবাহী। এই সময়ে আমাদের পাইলটদের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মীদের পেশাদারি, দক্ষতা এবং নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতি লাখ লাখ যাত্রী এবং বৃহত্তর সমাজের আস্থা অর্জন করেছে। এই আস্থা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, এবং এটি রক্ষা ও টিকিয়ে রাখার জন্য যা কিছু করা সম্ভব তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের মধ্যে অনেকেই সম্প্রতি একই অনুভূতি প্রকাশ করতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।’
গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লি ফিরছিল। ওড়িশার আকাশসীমায় মাঝ-আকাশে হঠাৎ বিমানটি তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ঘটনার সময় বিমানের প্রধান পাইলট তার আসনে ছিলেন না, দায়িত্বে ছিলেন কো-পাইলট।
বিমানটি তীব্র গতিতে নিচে নামার সময় ভেতরে সাময়িকভাবে ‘নেগেটিভ গ্র্যাভিটি’ বা ঋণাত্মক মাধ্যাকর্ষণ তৈরি হয়। ফলে ককপিটের জিনিসপত্র এবং সিটবেল্ট না বাঁধা যাত্রীরা শূন্যে ভেসে উঠে ছিটকে পড়েন। এআই২৩৭৯ ফ্লাইটের সেই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২০ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু আহত হন।
ফ্লাইটটির দিল্লিতে অবতরণের পর প্রধান পাইলট সুদীপ ভাসিস্তার ডোপ টেস্ট করা হয়। পরপর দুটি টেস্টেই তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। পাইলটের বিরুদ্ধে ডোপ টেস্ট ছাড়াও নানা অভিযোগ আসছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার যাত্রাবিরতিতে তিনি সব ক্রুদের নিয়ে পার্টিতে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি যাত্রীদের ভিডিও না করার নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘তিলকে তাল বানাবেন না।’
দিল্লিতে অবতরণের পর পাইলট সুদীপ সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলেন না। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর একজন তদন্তকারী তাকে সতর্ক করে দিয়ে মনে করিয়ে দেন, সিসিটিভির মাধ্যমে তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তারপরও তাকে বসানোর জন্য সাহায্য করতে হয়েছিল। এমনকি প্রস্রাবের নমুনা জমা দেওয়ার সময়ও তাকে শারীরিকভাবে সাহায্য করতে হয়েছিল। প্রধান পাইলট মাদক সেবনের কথা অস্বীকার করলেও ঘুমের জন্য ওষুধ সেবনের কথা স্বীকার করেছেন।
ভারতের এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা যৌথভাবে এয়ারবাসের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাটির তদন্ত করছে। তদন্ত চলার সময়ে পাইলট ও কো পাইলটকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

