মঙ্গলবার,

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মঙ্গলবার,

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Radio Today News

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সে তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সে তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

ফ্রান্সে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশজুড়ে আরও বেড়েছে। শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন আর অতিরিক্ত ক্লাসের চাপের প্রতিবাদে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ১৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই আন্দোলন ছড়িয়েছে এবং ১৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়া লকুরনু ও কট্টর-বামপন্থি নেতা জ-লুক মেলেনশোর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডাও চলছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেইয়ের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা প্যারিস অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও কর্মী নেই, অনেক ভবনের অবস্থা খারাপ এবং অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে চাপে ফেলছে। এসব সমস্যার সমাধানে শিক্ষা খাতে আরও অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার দেশজুড়ে উচ্চবিদ্যালয় অবরোধের কর্মসূচি পালন করা হয়। অনেক জায়গায় বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও অগ্নিসংযোগ, বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সোমবার পর্যন্ত অন্তত ১৫টি বিদ্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আলপ-মারিতিম অঞ্চলে ১০ জন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়া লকুরনু অভিযোগ করেছেন, কট্টর-বামপন্থি দল ল্য ফ্রস ইনসুমিজের কয়েকজন নেতা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উৎসাহ দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার, কিন্তু সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে জ-লুক মেলেনশো সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত কঠোরতা দেখানোর অভিযোগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, আমাদের তরুণদের স্পর্শ করবেন না। একই সঙ্গে তিনি তার দলের সমর্থকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপে ‘স্পষ্ট বর্ণবাদী প্রবণতা’ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মেলেনশোর এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে লকুরনু বলেছেন, বর্ণবাদের অভিযোগ ‘একটি অপমান’। তার কথায়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার অধিকার আছে। একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারী এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তাদেরও নিরাপত্তা ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

এই আন্দোলন এমন সময়ে বিস্তৃত হচ্ছে, যখন ফ্রান্স সরকার ২০২৭ সালের বাজেট নিয়ে কঠিন রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে সরকারের মতবিরোধ তীব্র। একই সময় জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে।

দেশটির সরকারি ঋণও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। জুন পর্যন্ত ফ্রান্সের সরকারি ঋণ প্রায় ৩ দশমিক ৫৯৬ ট্রিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১১৯ শতাংশ। ফলে বাজেট ঘাটতি কমানো ও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

আগামী ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে। সাংবিধানিক নিয়মে এমানুয়েল মাক্রো নতুন করে প্রার্থী হতে না পারলেও মাঠে সরব রয়েছেন গত নির্বাচনের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী জ-লুক মেলেনশ। আগামী বছরের ১৮ এপ্রিল প্রথম ও ২ মে দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এখন শিক্ষা খাতের গণ্ডি পেরিয়ে অর্থনীতি, সরকারি ব্যয় ও আইনশৃঙ্খলাসহ ফ্রান্সের সার্বিক রাজনীতির বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের


Warning: Undefined variable $sAddThis in /home/radio4to0da9y/public_html/details.php on line 536