বুধবার,

০৪ নভেম্বর ২০২৬,

২০ কার্তিক ১৪৩৩

বুধবার,

০৪ নভেম্বর ২০২৬,

২০ কার্তিক ১৪৩৩

Radio Today News

হিজাব পড়েই ফিলিস্তিনি কাওয়াসের ঐতিহাসিক জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১১, ৪ নভেম্বর ২০২৬

Google News
হিজাব পড়েই ফিলিস্তিনি কাওয়াসের ঐতিহাসিক জয়

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নারী আবের কাওয়াস। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১২ নম্বর আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি এই ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নিউইয়র্ক আইনসভার প্রথম হিজাব পরিহিত নারী সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হলেন।

সাংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে ৯০ শতাংশ ভোট গণনার সময় ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ তাঁর বিজয় ঘোষণা করে। সে সময় পর্যন্ত তিনি প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। এই দুর্দান্ত জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ও আবেগময় প্রতিক্রিয়ায় কাওয়াস লিখেছেন, আমরা ইতিহাস গড়েছি।

নির্বাচনী প্রচারণায় আবের কাওয়াস মূলত ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’ এই স্লোগানটিকে সামনে রেখেছিলেন। প্রচারের ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ’ অংশের আওতায় তিনি সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে, ‘ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’ স্লোগানটির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং বিদেশি যুদ্ধে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

কাওয়াস মূলত ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা’ (ডিএসএ)-এর একজন সদস্য। সম্প্রতি নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক জয়ের পর এই সংগঠনের রাজনৈতিক তৎপরতা ও সাফল্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারের নির্বাচনে কাওয়াসের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ছাড়াও মার্কিন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসম্যান রাশিদা তালাইবের মতো বিশিষ্ট প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতারা।

রাজনীতির মাঠে নামার আগে দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে শ্রমিক অধিকার, অভিবাসী জনগোষ্ঠী এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন কাওয়াস। নিউইয়র্কের দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারত্বকে সমর্থনকারী সংস্থায় অর্থায়ন করতে না পারে, সেজন্য ‘নট অন আওয়ার ডাইম’ প্রচারাভিযান গড়ে তোলার পেছনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। যদিও আইনপ্রণেতাদের প্রবল বিরোধিতার কারণে তখন বিলটি পাস করানো সম্ভব হয়নি।

১৯৯০-এর দশকে ফিলিস্তিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসিত হওয়া এক পরিবারের সন্তান কাওয়াস ব্রুকলিনেই জন্ম নেন এবং বেড়ে ওঠেন। স্কুলে পড়ার সময় তাঁর বাবাকে জর্ডানে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের অভিবাসননীতিবিষয়ক অবস্থানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। নিউইয়র্কের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের সহযোগিতা বন্ধের লক্ষ্যে ‘নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্ট’ আইন পাসের দাবিতে তিনি সোচ্চার রয়েছেন।

ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সংগত অধিকারের পক্ষে তাঁর আপসহীন অবস্থানের কারণে চলতি বছর নিউইয়র্কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফরের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন কাওয়াস, যদিও পরবর্তীতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এছাড়া নিউইয়র্ক পুলিশের সঙ্গে ইসরাইলি নজরদারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কগনাইটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফোন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা তৈরির চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর প্রবল প্রতিবাদের মুখে পুলিশ সেই চুক্তি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। বর্ণবাদ, সামাজিক বৈষম্য ও বৈশ্বিক অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে উঠে আসা আবের কাওয়াসের এই জয় মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন ধারার শুভসূচনা করল।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের