বহুল আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণী ধর্ষণ মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ রায় ঘোষণা করেন আদালত।
ঘটনার ৫ বছর ৯ মাস পর আজ মঙ্গলবার সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিশেষ জজ স্বপন কুমার সরকার এ রায় প্রদান করেন।
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় শাহপরাণ থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। পরে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব।
ছাত্রাবাস থেকে অভিযুক্ত সাইফুর রহমানের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একটি পাইপগান, ৪টি রামদা, ২টি চাকু উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহপরান থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়। এছাড়া অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় আরেকটি মামলা করে পুলিশ। তিনটি মামলারই চার্জশিট দেওয়া হয় ওই সময়।
বর্তমানে আসামিরা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের ধর্ষণের আলামতের সাথে মিল পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মাসুম। তাঁদের মধ্যে আসামি সাইফুর, রনি, মাসুম ও রবিউল এমসি কলেজের ছাত্র হওয়ায় ওই সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের বহিষ্কার ও ছাত্রত্ব বাতিল করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও ৪ জনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

