কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন মামলাটি রায়ের জন্য রাখা হবে।
এদিকে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত কথিত গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরের মামলায় ১১ আসামি কারাগারে রয়েছেন। আরও ৩০ জন পলাতক। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরোয়ানা অনুযায়ী তাঁদের নিজ নিজ ঠিকানায় গিয়েও পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এসব আইনি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মামলার বিচারকাজ শুরু হবে।
শাপলা চত্বরের মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সব মামলাকেই গুরুত্ব দিয়ে বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে শাপলা চত্বরের গণহত্যার মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনাকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘রং মেখে অভিনয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। অথচ ওই ঘটনায় ৬১ জন আলেম-ওলামাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিচারকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য নানা ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ধর্মপ্রাণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল শাপলা চত্বরের হত্যা মামলার বিচার হোক। এ বিষয়ে মানুষের গণদাবিও রয়েছে। আমরা জনগণের এমন দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিচারটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করব।’
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

