ভয় থেকেই মিথ্যা বলে কিশোর-কিশোরীরা, কিভাবে বুঝবেন সন্তানের মন?

বৃহস্পতিবার,

২৭ আগস্ট ২০২৬,

১২ ভাদ্র ১৪৩৩

বৃহস্পতিবার,

২৭ আগস্ট ২০২৬,

১২ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

ভয় থেকেই মিথ্যা বলে কিশোর-কিশোরীরা, কিভাবে বুঝবেন সন্তানের মন?

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৫১, ২৭ আগস্ট ২০২৬

Google News
ভয় থেকেই মিথ্যা বলে কিশোর-কিশোরীরা, কিভাবে বুঝবেন সন্তানের মন?

কিশোর বয়সে সন্তানের আচরণে পরিবর্তন দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এ সময় নিজের মতো করে চলতে চায় তারা।

বন্ধু, পড়াশোনা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, কোচিং কিংবা বাইরে যাওয়া—বিভিন্ন বিষয়েই বাবা-মায়ের সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

এই বয়সে সন্তান মিথ্যা বললে অনেক অভিভাবকই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কেউ মনে করেন সন্তান অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে, আবার কেউ ভাবেন তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।

তবে প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরের মিথ্যার পেছনে সবসময় বিদ্রোহ কাজ করে না। অনেক সময় ভয় থেকেই সত্যি লুকায় তারা।
ভারতের বেঙ্গালুরুভিত্তিক প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞ ডেবমিতা দত্ত কিশোরদের মিথ্যা বলার তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সন্তানের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক রাখতে হলে মিথ্যা বলার জন্য শুধু বকা নয়, এর পেছনের কারণটিও বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

বাবা-মা তাকে বোঝেন না

কিশোরদের কাছে বন্ধুত্ব, স্কুলের ঘটনা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো সমস্যাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু বাবা-মা যদি এসব বিষয়কে তুচ্ছ মনে করে এড়িয়ে যান, তাহলে সন্তান নিজের কথা বলা থেকে দূরে সরে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। তার অনুভূতিকে ‘এটা কোনো ব্যাপার না’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সন্তান যখন বুঝবে তার কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে, তখন বাবা-মায়ের কাছে সত্যি বলার আস্থাও বাড়বে।

বাংলাদেশের পরিবারেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার ফল, পরীক্ষার নম্বর, কোচিং, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা মোবাইল ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে সন্তানকে বারবার জেরা করলে অনেক সময় সে নিজের কথা গোপন করতে শুরু করতে পারে।

ভুল করলে বকা বা শাস্তির ভয়

কিশোর বয়সে সন্তান নিজের পরিচয় তৈরি করতে চায়। একই সঙ্গে বাবা-মাকে হতাশ করার ভয়ও কাজ করতে পারে।

কোনো ভুলের জন্য প্রতিবার রাগ বা বকাঝকা করা হলে সন্তান ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে সেটি লুকিয়ে রাখতে পারে। তাই ভুল করলে আগে জানতে হবে কী ঘটেছে এবং কেন ঘটেছে।

ভুল থেকে কী শেখা যায়, সেটি বোঝানো বেশি কার্যকর হতে পারে। এতে সন্তান বুঝতে পারে, ভুল করলেও বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলা নিরাপদ।

সব কিছুতেই যদি ‘না’ হয়

‘ওখানে যাবে না’, ‘এটা করবে না’, ‘এতক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করবে না’—কিশোর বয়সে এমন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

নিরাপত্তা বা পারিবারিক নিয়মের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। তবে প্রতিটি বিষয়ে শুধু নিষেধ করার বদলে কেন সেটি করা যাবে না, তা বুঝিয়ে বলা জরুরি।

কোনো বিষয় নিরাপদ হলে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সন্তানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও দেওয়া যেতে পারে। এতে বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনার অভ্যাস তৈরি হয় এবং কিছু লুকানোর প্রয়োজন কমতে পারে।

সন্তান মিথ্যা বললে কী করবেন?

সন্তান মিথ্যা বলেছে বুঝতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার বা অপমান না করে শান্তভাবে কথা বলা জরুরি। প্রথমে জানতে চেষ্টা করুন, সে কেন সত্যিটা বলতে ভয় পেয়েছিল।
 
সন্তানের কথা পুরোপুরি শোনার পর পারিবারিক নিয়ম ও সীমারেখা পরিষ্কার করে দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে তাকে বোঝাতে হবে—সত্যি বললে ভুল নিয়ে আলোচনা করা যাবে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয় লুকানো হলে আস্থার সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালোবাসা ও নিয়ম—দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রাখা। অতিরিক্ত কঠোরতা যেমন সন্তানকে দূরে ঠেলে দিতে পারে, তেমনি কোনো সীমা না থাকাও সমস্যার কারণ হতে পারে।

কিশোর বয়সে সন্তান ধীরে ধীরে স্বাধীন হতে শেখে। তাই এই সময়টায় শুধু নিয়ন্ত্রণ করার পরিবর্তে তার কথা শোনা, যুক্তি দিয়ে বোঝানো এবং প্রয়োজনীয় সীমারেখার মধ্যে স্বাধীনতা দেওয়াই বাবা-মায়ের জন্য বেশি কার্যকর পথ হতে পারে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের