তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটের বিমানে ছিল গুরুতর ত্রুটি

শনিবার,

০৭ মার্চ ২০২৬,

২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

শনিবার,

০৭ মার্চ ২০২৬,

২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

তদন্তে ভয়াবহ তথ্য

তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটের বিমানে ছিল গুরুতর ত্রুটি

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:১৩, ৭ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১০:১৫, ৭ মার্চ ২০২৬

Google News
তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটের বিমানে ছিল গুরুতর ত্রুটি

বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের একটি উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। সংস্থাটির এক অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, গুরুতর যান্ত্রিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই উড়োজাহাজটি দিয়েই গত ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইটে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানকে বহন করা হয়েছিল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এই প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব ব্যবস্থাপক, অর্থ (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ (এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়ম করা হয়েছে। বিশেষ করে ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়, যা বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিক কম। এ ছাড়া উড়োজাহাজটির ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার সঠিক কোনো রেকর্ডও তদন্ত কমিটির কাছে পাওয়া যায়নি।

 ২৫ ডিসেম্বর প্রত্যাবর্তনের দিন ফ্লাইটের ভেতরে তারেক রহমান ও তার পরিবার।

তদন্তে দেখা গেছে, ১৫ দিনের ব্যবধানে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। গত ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইটটি যখন মাঝ আকাশে ছিল, তখন আবারও এর ভিএফএসজি বিকল হয়ে যায়। কমিটির মতে, এ ধরনের ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। প্রকৌশল বিভাগের এমন উদাসীনতার পরেও ত্রুটিপূর্ণ বিমানটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহার করা হয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের এই চরম অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, এক বিমান থেকে যন্ত্রাংশ খুলে অন্যটিতে লাগানো এবং জরুরি ভিত্তিতে যন্ত্রাংশ পরিবহনের পেছনে এই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। তদন্ত কমিটি এই আর্থিক ক্ষতির দায় নির্ধারণের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াকে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি জানিয়েছে, উড়োজাহাজটিতে কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেটিকে উড্ডয়নের ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। তাদের এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে জানমালের বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

বিমানের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রতিবেদন জমার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের