টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বেড়ে ৫ জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এক পূর্বাভাসে জানানো হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। আগামী দুই দিনে এসব নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বেড়ে কিছু এলাকায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বেড়েছে। আগামী দুই দিনও এসব নদীর পানি বাড়তে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।
এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের যাদুকাটা, ভুলাই-কংস নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে সোমেশ্বরী নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে এবং সারিগোয়াইন নদীর পানি কমেছে।
উত্তরাঞ্চলেও বাড়ছে নদীর পানি
রংপুর বিভাগের নদ-নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এ ছাড়া গাইবান্ধায় তিস্তা এবং কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবো আরও জানিয়েছে, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাঘট, আত্রাই, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী ও করতোয়া নদীর পানি বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন এসব নদীর পানিও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। ফলে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

