চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাগুলোর তদন্ত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত শেষ করে বিচার সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রোববার (০২ আগস্ট) যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় এই গণশুনানির আয়োজন করে।
গণশুনানিতে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক নবীউল্লাহ নবী, যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজন ও আহত ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং বিচার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের দাবি, প্রতিশোধ নয়— আইনের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
শহীদ পারভেজের মা কানিজ ফাতেমা বলেন, ৫ আগস্ট আমার ছেলে শহীদ হয়। সন্তান হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি শুধু আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই।
শহীদ শাহাদাত হোসেন শাওনের বাবা মো. বাসির আলম বলেন, বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ বহন করার মতো কষ্ট পৃথিবীতে আর কিছু নেই। যারা আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
শহীদ সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম বলেন, আমার বুক খালি হয়ে গেছে। আমি শুধু সন্তানের হত্যার বিচার চাই। শহীদ মো. শাকিবের মা হেলেনা বলেন, আমার সন্তানের মতো সব শহীদের হত্যার বিচার হোক।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর মধ্যে যাত্রাবাড়ীর ঘটনাও রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে বিচার সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের থানায় থাকা তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশনা দেন, যাতে একই সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করা যায়।
শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে আমিনুল ইসলাম বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রত্যেক শহীদ ও আহত পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
যাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে একাধিক মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্তে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিও ফুটেজ বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করেছে।
তিনি গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছেও জুলাই হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

