আগস্টে দুই লঘুচাপের সম্ভাবনা, হতে পারে স্বল্পমেয়াদি বন্যা

সোমবার,

০৩ আগস্ট ২০২৬,

১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

সোমবার,

০৩ আগস্ট ২০২৬,

১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

আগস্টে দুই লঘুচাপের সম্ভাবনা, হতে পারে স্বল্পমেয়াদি বন্যা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:৫৭, ২ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২৩:১৩, ২ আগস্ট ২০২৬

Google News
আগস্টে দুই লঘুচাপের সম্ভাবনা, হতে পারে স্বল্পমেয়াদি বন্যা

আগস্ট মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়ে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি। রবিবার (২ আগস্ট) ঢাকার বড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কমিটির নিয়মিত সভায় ২০২৬ সালের জুলাই মাসের আবহাওয়ার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং আগস্ট মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম।

সভায় আগস্ট মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকায় ২৮০ থেকে ৩২০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ৩৪০ থেকে ৩৮০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৪৮০ থেকে ৫২০ মিলিমিটার, সিলেটে ৪৫০ থেকে ৪৯০ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ২৪০ থেকে ২৬০ মিলিমিটার, রংপুরে ৩৫০ থেকে ৩৯০ মিলিমিটার, খুলনায় ২৬০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার এবং বরিশালে ৩৮০ থেকে ৪২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এ মাসে দেশে ৫ থেকে ৬ দিন বজ্রঝড় হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ১ থেকে ২টি মৃদু (৩৬-৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (৩৮-৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। নদ-নদীর বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানির সমতল সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কৃষি আবহাওয়া বিষয়ে কমিটি জানিয়েছে, আগস্ট মাসে দেশে দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং গড় উজ্জ্বল সূর্যকিরণকাল ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ ঘণ্টা থাকতে পারে, যা আমন ধানসহ চলমান কৃষি কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞ কমিটি জানায়, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত বিভিন্ন গ্লোবাল প্রডিউসিং সেন্টার, ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস (ইসিএমডব্লিউএফ), জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ), যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোআ), আইআরআই-কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট সেন্টার (এপিসিসি), রাইমস (রাইমস) এবং ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সি-থ্রি-এস)-এর মডেল পূর্বাভাস, আবহাওয়ার উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়া বিশ্লেষণ, জলবায়ু মডেল এবং এল-নিনো/লা-নিনার অবস্থা বিশ্লেষণ করে আগস্ট মাসের এ পূর্বাভাস প্রণয়ন করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, জুলাই মাসে সারাদেশে গড়ে ৬৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক ৪৯১ মিলিমিটারের তুলনায় প্রায় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ময়মনসিংহ বিভাগে প্রায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও দেশের অন্য সব বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে স্বাভাবিক ৬৯২ মিলিমিটারের বিপরীতে ১ হাজার ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫১ শতাংশ বেশি। সিলেটে ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ঢাকায় ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ, বরিশালে প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ, খুলনায় ৫৩ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে।

জুলাই মাসে বঙ্গোপসাগরে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে প্রথমটি ২ জুলাই উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে ৫ জুলাই মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয় এবং ৬ জুলাই উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় লঘুচাপটি ১৫ জুলাই সৃষ্টি হলেও নিম্নচাপে পরিণত না হয়ে ১৭ জুলাই দুর্বল হয়ে যায়। তৃতীয় লঘুচাপটি ২৫ জুলাই সৃষ্টি হয়ে ২৬ জুলাই মৌসুমি নিম্নচাপ এবং ২৭ জুলাই গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এটি ২৮ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।

এসব আবহাওয়াজনিত ব্যবস্থার প্রভাবে জুলাই মাসের অধিকাংশ সময় দেশজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। ৮ জুলাই চট্টগ্রামের আমবাগানে সর্বোচ্চ ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

এ ছাড়া ৩-৪ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। জুলাই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ৪ জুলাই রংপুরে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ২১ ও ২২ জুলাই সিলেটে রেকর্ড করা হয়। তবে মাসজুড়ে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক ছিল।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের