নাটোরের লালপুরে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের সমর্থক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষটি রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এসময় বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন সমর্থক। ঘটনাস্থল থেকে খলিল নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর সমর্থকরা উপজেলার আরবাব ইউনিয়নের কচুয়া এলাকায় একটি নির্বাচনী মিছিল বের করেন। মিছিলটি কচুয়া বাজার এলাকায় পৌঁছে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের নির্বাচনী ক্যাম্প অতিক্রম করার সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে গালাগালি ও তর্কাতর্কি থেকে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এর পরপরই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা বিএনপির প্রার্থী পুতুলের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে খলিল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। খলিল স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপুর একজন সমর্থক।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৭ জন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।
স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ধানের শীষের কার্যালয় থেকে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। ৫-৬শ মানুষের মিছিলে হামলা করায় অনেকে ছুটাছুটি করে এদিক সেদিক চলে গেছে। তাই আহতদের সঠিক সংখ্যা বলা কঠিন। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে, যার মধ্যে ৭ জন এখনো ভর্তি আছে। হামলার সময় বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা গুলি করেছে এবং তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।”
হামলাকারীরা টিপুর সমর্থকদের ৫-৭ টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপি প্রার্থীর ফারজানা শারমিন পুতুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও উপজেলা বিএনপি সাবেক সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ পাপ্পু বলেন, “এশার নামাজের পর আরবাব ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়া নির্বাচনী অফিসে আমাদের কয়েক জন লোক বসেছিল। এ সময় সালামপুর থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর এক- দেড়শ সমর্থক কচুয়া বাজারে এসে মিছিল শুরু করে। মিছিলটি আমাদের অফিস অতিক্রম করে আবারো ঘুরে আসে। একপর্যায়ে আমাদের অফিসে তারা হামলা চালিয়ে অফিস তছনছ করে দেয়। আমাদের প্রার্থী ও তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করে। এ সময় আমাদের তিনজন সমর্থক আহত হয়। আমরা অভিযোগ করার জন্য থানায় এসেছি।”
লালপুর থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এসময় স্থানীয়রা খলিল নামে একজনকে আটক করে রাখলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

