রাষ্ট্রীয় আচার মানতেই শহীদ মিনারে জামায়াতের আমির

শনিবার,

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৯ ফাল্গুন ১৪৩২

শনিবার,

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৯ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

রাষ্ট্রীয় আচার মানতেই শহীদ মিনারে জামায়াতের আমির

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৪২, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
রাষ্ট্রীয় আচার মানতেই শহীদ মিনারে জামায়াতের আমির

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নবনির্বাচিত প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাঁর এই কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী অতীতে কখনো শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি পালন করেনি। দলটির পক্ষ থেকে অতীতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘অনৈসলামিক’ হিসেবে বর্ণনা করার নজির রয়েছে। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। জুলাই আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিলো শহীদ মিনার থেকেই।  গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে।

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আমাকে আসতে হবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে। তাই আমি এসেছি। এটা আমার দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ। মূলত রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা থেকেই তিনি এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

শনিবার প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শফিকুর রহমান।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়েই ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির শুধুভাষাশহীদদের নয়, বরং ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত সকল আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, আমরা বায়ান্নর শহীদদের স্মরণ করি, একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে যাঁরা শহীদ হয়েছেন এবং সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো যোদ্ধা এবং ওসমান হাদিকেও তিনি পরম শ্রদ্ধায় উল্লেখ করেন।

জামায়াতের আমির শহীদ মিনারে যাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই একে দলটির কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

শহীদ মিনারে এক সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করেন, জামায়াত কি এখনো ফুল দেওয়াকে ‘নাজায়েজ’ মনে করে কি না, তখন ডা. শফিকুর রহমান কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের প্রশ্ন আপনি কেন আজকে করছেন? এরপর তিনি আর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
 
দলের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এটি একটি ‘রাষ্ট্রীয় আচার’। তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের শহীদ মিনারে এই উপস্থিতি বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের