শুক্রবার,

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,

২ আশ্বিন ১৪২৮

পরীক্ষামূলক প্রকাশ

শুক্রবার,

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,

২ আশ্বিন ১৪২৮

Radio Today News

খুলনা-মোংলা রেলপথ, ব্যয় বাড়ছেই

শুভ্র শচীন, খুলনা

প্রকাশিত: ১৭:০৫, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

খুলনা-মোংলা রেলপথ, ব্যয় বাড়ছেই

খুলনা-মোংলা রেললাইনের নির্মাণকাজ

২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদন পাওয়া খুলনা-মোংলা ৬৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি। ফলে প্রথমে ২০১৮ সালের জুন, পরে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয় প্রকল্পের মেয়াদ। এরপরে আবারও নতুন করে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে।

এদিকে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে সমান গতিতে। প্রকল্পের ব্যয় এখন ৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় বেশকিছু অংশে ব্যয় বেড়ে গেছে। এজন্য আরেক দফা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে বাড়তি চাওয়া হচ্ছে ৪৫৯ কোটি টাকা। প্রকল্প সংশ্নিষ্টরা বলছেন, নতুন ওই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে এই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ৪ হাজার ২৬০ কোটি টাকায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সময় ও ব্যয় বাড়লেও প্রকল্পের মূল অংশ রেললাইন বসানোর কাজে গতি আসছে না। গত ১১ বছরে ৬৫ কিলোমিটার লাইনের মধ্যে বসানো হয়েছে মাত্র ১০ কিলোমিটার। ৮টি স্টেশনের মধ্যে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩টির। এ তিনটির প্ল্যাটফর্ম, শেডসহ আনুষঙ্গিক কাজও বাকি রয়েছে। দুটি রেলস্টেশনের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। কাজের গতি না বাড়ালে বর্ধিত সময়েও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় থেকে যাবে।

তবে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ রূপসা রেলসেতুর কাজের অগ্রগতি বেশ। সেতু ও গার্ডারের ১৪২টি পিয়ারের মধ্যে ১৪১টির কাজ শেষ। রেলসেতুর মূলঅংশ ৭৩ নম্বর পিয়ারের কাজ বাকি রয়েছে। রেলসেতুর উপর গার্ডার বসবে ৭টি। এরমধ্যে ২টি শেষ হয়েছে। ৩টির মালপত্র ভারত থেকে চলে এসেছে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা সংক্রমণের কারণে মাঝে কাজের গতি কিছুটা ধীর ছিল। তবে এখন পুরোদমে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে রেলপাটি বসানোর জন্য বেড তৈরির কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। রেললাইন স্থাপনের প্রাথমিক কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। রূপসা নদীর ওপর রেলসেতু নির্মাণের কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ফুলতলা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেললাইনের দৈর্ঘ্য হবে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার। রেললাইন রূপসা নদীর ওপর দিয়ে যাবে। এজন্য রূপসা সড়ক সেতুর অদূরে রেলসেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। দুইতীরে ভায়াডাক্টসহ রেলসেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার।

রেললাইনটি খুলনার ফুলতলা স্টেশন থেকে খুলনার পশ্চিমপাশ দিয়ে আড়ংঘাটা হয়ে মোহাম্মদনগর হয়ে রূপসা রেলসেতু পার হবে। নদীর ওপারে কাটাখালী, চুলকাঠি বাজার, ভাগা, দিগরাজ, মোলা বন্দর সংযুক্ত হয়ে মোংলা গিয়ে মিশবে। এই ৮টি এলাকায় ৮টি রেলস্টেশন থাকবে।

২০১২ সালের নভেম্বরে খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পায় ভারতের সিইজি নিপ্পন কোয়েজেভি। এরপর রেললাইন তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ভারতের আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইরকন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং রেলসেতু নির্মাণের জন্য ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারতের লারসেন অ্যান্ড টার্ব (এলএনটি) নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের অক্টোবরে।

খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের পরিচালক আরিফুজ্জামান বলেন, জমি অধিগ্রহণ করে কাজ শুরু করতে অনেক সময় লেগে গেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের প্রধান কাজগুলো প্রায় শেষ। রেলসেতুর ৯০ ভাগ কাজ শেষ। বর্তমান গতিতে কাজ চললে নভেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হয়ে যাবে।

রেডিওটুডে নিউজ/জেএফ

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের