ট্রাকচাপায় শিশুসহ একই পরিবারের নিহত ৩

মঙ্গলবার,

১৭ মার্চ ২০২৬,

৩ চৈত্র ১৪৩২

মঙ্গলবার,

১৭ মার্চ ২০২৬,

৩ চৈত্র ১৪৩২

Radio Today News

ট্রাকচাপায় শিশুসহ একই পরিবারের নিহত ৩

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:৫০, ১৭ মার্চ ২০২৬

Google News
ট্রাকচাপায় শিশুসহ একই পরিবারের নিহত ৩

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে উপজেলার মির্জারকোট মডেল মসজিদ এলাকায় একটি বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

নিহতরা হলেন শরিফুল ইসলাম (৩৫), তার স্ত্রী এবং পুত্র। তাদের স্থায়ী নিবাস দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের মনসাপুর গ্রামে। এই ঘটনায় পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম পাটগ্রামে একটি বেসরকারি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রাম দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

যাত্রাপথে পাটগ্রামের মির্জারকোট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শরিফুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও শিশু পুত্রের মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত মেয়েটিকে উদ্ধার করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এবং ট্রাকটির চালকের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। পাটগ্রাম থানা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক ট্রাক ও এর চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

ঈদের ঠিক আগে এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। শরিফুল ইসলামের সহকর্মীরা জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতেই তিনি ভোরে যাত্রা শুরু করেছিলেন, কিন্তু সেই যাত্রা পথেই শেষ হয়ে গেল। 

সড়ক ও মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং যথাযথ ট্রাফিক আইন না মানার কারণেই এই ধরনের প্রাণহানি ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের