ইরানের তেহরান ও লেবাননের বৈরুতে মঙ্গলবার নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে বাগদাদে হামলার ঘটনায় ইরাকও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান প্রায় প্রতিদিনই বোমাবর্ষণের শিকার হচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা সেখানে ‘সন্ত্রাসী শাসনের’ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার জানিয়েছে, ভোরের দিকে ইসরায়েলি হামলায় বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্য জানা গেছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার জন ছয়শ’টির বেশি গণআশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
আঞ্চলিক এই যুদ্ধ ধারাবাহিকভাবে ইরাককেও লড়াইয়ের দিকে টানছে। মঙ্গলবার ভোরে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়। একই সময়ে পৃথক হামলায় একটি বাড়িতে চারজন নিহত হয়েছেন। সেখানে ইরানি উপদেষ্টারা অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনে বিদেশি কূটনীতিকদের যাতায়াত আছে এমন একটি বিলাসবহুল হোটেলে ড্রোনের আঘাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
হরমুজ প্রণালি ও আরমান্ডা
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন মিত্রদেশগুলোকে প্রচণ্ড উৎসাহের সঙ্গে তথাকথিত আরমান্ডা নৌ-বহরে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাংকার পাহারার জন্য তিনি কিছু দেশকে দ্রুত আরমান্ডায় যোগ দিতে উৎসাহ দিচ্ছেন।
এমন সময়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, লন্ডন মিত্রদের সঙ্গে মিলে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির কাজ করছে। তবে এই অভিযানে ন্যাটোর সম্পৃক্ততা থাকবে না।
জার্মানিও বলেছে, এই যুদ্ধ ন্যাটোর কোনো বিষয় নয়। এর বাইরে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, স্পেন, গ্রিস ও সুইডেন আরমান্ডায় যোগ দেওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
এদিকে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য ইসরায়েলকে লেবাননে আগ্রাসন না চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এএফপিকে বলেছেন, ইউরোপের উচিত হিজবুল্লাহকে নির্মূলে যেকোনো প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা।
অনমনীয় তেহরান
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান অন্তত ১০টি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে ১ হাজার ২০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এ অবস্থায় তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার বেশ উদ্ধত ও অনমনীয় সুরে কথা বলেছেন। সাংবাদিকদের আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘তারা এখন বুঝতে পেরেছে, আসলে কাদের মুখোমুখি হয়েছে। ইরান নিজেকে রক্ষা করতে দ্বিধা করে না। এই যুদ্ধের মোড় যেদিকেই যাক না কেন তা চালিয়ে যেতে তেহরান প্রস্তুত।’
এদিকে তীব্র হামলার মধ্যেও কিছু ইরানি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। ক্যাফে ও রেস্তোরাঁগুলো আবার খুলতে শুরু করেছে। আসন্ন নববর্ষ সামনে রেখে সম্প্রতি তেহরানের জনপ্রিয় তাজরীশ বাজারে বেশ ভিড় দেখা গেছে।
তবে যুদ্ধের কারণে অনেক ইরানি নিজ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

