রোববার,

১৬ মে ২০২১

ঝোড়ো বাতাসে ঘুরত চিকতন কেল্লা!

প্রকাশিত: ১৮:১২, ১৯ নভেম্বর ২০২০

আপডেট: ০৯:২৩, ১০ জানুয়ারি ২০২১

ঝোড়ো বাতাসে ঘুরত চিকতন কেল্লা!

চিকতন কেল্লা

দক্ষিণ এশিয়ার শীত প্রধান রাজ্য লাদাখ। ভারত-পাকিস্তান এমনকি চীনের সীমান্ত ঘেরা এই রাজ্যের একটি জেলা কার্গিল। বিভিন্ন সময় পাক-ভারত যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে লক কার্গিল বা এলওসি কার্গিল নামে এ জেলা পরিচিত। কিন্তু এর আরও একটি পরিচয় আছে ইতিহাসের পাতায়।

পাকিস্তানের গিলগিত অঞ্চলের বাল্টিস্তান নিজেদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করছিলেন রাজকুমার তাহতাহ খান। তার শাসনামল শুরু হতেই শত্রুদের আকষ্মিক আক্রমণে পড়ে বাল্টিস্তান। তাহতাহ খান তার পরিবার, সঙ্গী-সামন্ত নিয়ে আশ্রয় নেন কার্গিলের চিকতন গ্রামে। এখনকার কার্গিলের সৌন্দর্যের চেয়ে তখনকার কার্গিল অঞ্চল ছিল এক অপরূপ লীলাভুমি। রাজকুমার তাহতাহ খান চিকতন গ্রামে এসে এতই মুগ্ধ হন, স্থায়ী বসবাসের জন্য সেখানে বড় প্রাসাদ নির্মাণ শুরু করেন।

কিন্তু তাহতাহ খানের প্রাসাদ নির্মাণ হয়নি। অষ্টম শতাব্দীতে চিকতনে নির্মাণ করা হয় ছোট একটি দুর্গ। সেই দুর্গই এখন ‘চিকতন কেল্লা’ বা ‘দুর্গ চিকতন খা’ নামে পরিচিত। চিকতন গ্রামের একটি পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে দুর্গটি।

সিন্ধু নদের উপত্যকায় তিব্বতি স্থাপত্যরীতিতে তৈরি হয়েছিল দুর্গটি। তাহতাহ খানের সঙ্গে তার কয়েকজন স্থপতি বন্ধু চিকতনে চলে এসেছিলেন। গোপনে তারা বাল্টিস্তানে যোগযোগ করে কিছু নির্মাণ শ্রমিককে নিয়ে আসেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাথর আর কাঠ দিয়ে তারা চিকতন দুর্গের নির্মাণ করেন।

কাঠ দিয়ে দুর্গের ভেতরকার কাঠামো নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া দুর্গের ছাদেও ব্যবহার করা হয় কাঠ। বাইরের কাঠামোতে ব্যবহার হয়েছিল পাথর। ওই সময় বিভিন্ন গোপনীয়তার জন্য চিকতন কেল্লায় নির্মাণ করা হয় একটি ঘূর্ণায়মান কক্ষ। উপত্যকার ঝোড়ো বাতাসের গতিবেগের উপর নির্ভর করে ঘরটি ধীরে ধীরে ঘুরত।

কার্গিল শহর থেকে ৭৫ কি.মি. দূরে শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়ক থেকে উত্তর দিকে চিকতন গ্রামের এই দুর্গটির কিছু ভগ্নাবশেষ বাকি আছে। অথচ ক্ষমতার শীর্ষে থাকা চিকতন কেল্লায় বসেই আধিপত্য কায়েম করেছিল জম্মুর ডোগরা রাজবংশ। এ শাসনকালে কেল্লার আয়তন বৃদ্ধি পেয়েছিল। বহুবার চিকতন দুর্গ শত্রুর আক্রমণের নিশানা হয়েছিল। কিন্তু কখনই ক্ষতির মুখে পড়েনি।

ডোগরা রাজবংশের শাসন শেষ হওয়ার পরও কিছু সময় স্থানীয় শাসকরা কেল্লায় বসবাস করতেন। কিন্তু আধুনিক যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে চিকতন দুর্গ পরিত্যক্ত হতে শুরু করে। ১৯ শতকের শেষে পুরোটাই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে কেল্লাটি।

এক সময়কার লাদাখি গৌরব পরবর্তীতে ভুতুড়ে বাড়িতে পরিনত হয়। মূলত ভগ্নাবশেষ থেকে কৌতূহলীদের দূর রাখতে কয়েক যুগ আগ থেকে দুর্গ নিয়ে ভুতের গাল-গল্প শুরু করে স্থানীয়রা।