এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন নেতানিয়াহু?

সোমবার,

১০ আগস্ট ২০২৬,

২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সোমবার,

১০ আগস্ট ২০২৬,

২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন নেতানিয়াহু?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:০০, ১০ আগস্ট ২০২৬

Google News
এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন নেতানিয়াহু?

কঠিন বিষয়গুলোতে সরাসরি সিদ্ধান্ত জানানোর বদলে সেটিকে ঝুলিয়ে রাখতে পছন্দ করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যদি অবস্থান নিতেই হয়, তাহলে তিনি কিছুটা অস্পষ্টতা রাখেন। যাতে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি খারাপ হলে সেখান থেকে বের হওয়ার মতো পথ থাকে। কিন্তু এবার আর সেটা করেননি। 

নেতানিয়াহু সরাসরি বলেছেন, গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রস্তাব তিনি মানবেন না। রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ইসরায়েল ১৫ দফার এই নথি মেনে নিচ্ছে না।’

নেতানিয়াহুর এই জোরালো বক্তব্যের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে সোমবার একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। তারা লিখেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর জন্য এটা সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ এতে তিনি ট্রাম্পের রোষানলে পড়তে পারেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রোববার বিকেল পর্যন্ত ট্রাম্প এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

ভুল পদক্ষেপের কারণে ট্রাম্প এরইমধ্যে ইরান যুদ্ধে পরাজয়ের মুখে আছেন। যেকোনো মূল্যে বড় সাফল্য চাইছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সম্প্রতি গাজার দিকে নতুন করে নজর দিয়েছিলেন। ঘোষণা দেন, তাঁর প্রতিষ্ঠিত শান্তি পর্ষদ বা ‘বোর্ড অব পিস’ হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। 

পর্ষদটির শীর্ষ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে হামাসও নিরস্ত্র হবে। অর্থাৎ, হামাস তাদের অস্ত্র জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীও (আইডিএফ) গাজার ভেতর থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যাবে। তবে রোববার নেতানিয়াহুর ভাষণের পর, এই উদ্যোগে ইসরায়েলকে যুক্ত করা প্রায় অবাস্তব বলে মনে হচ্ছে। 

এখন প্রশ্ন হলো, ১৫ দফা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নেতানিয়াহু কেন ট্রাম্পকে উসকে দেওয়ার মতো ঝুঁকি নিচ্ছেন?

কারণটি সম্ভবত ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন। অক্টোবরের এই নির্বাচনের আগের জরিপে নেতানিয়াহুকে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে দেখা গেছে। তাই ভোটারদের কাছে দ্ব্যর্থহীনভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরার জন্য তিনি সম্ভবত বর্তমান সময়কেই বেছে নিয়েছেন।

আরেক দফায় ক্ষমতায় থাকতে হলে নেতানিয়াহুকে অতি-ডানপন্থী মিত্রদের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে। এই ডানপন্থীরা এরইমধ্যে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের বিরোধীতা করছে। নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা এই বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছিল। অতি-ডানপন্থীরা প্রকাশ্যে সেটির সমালোচনা করলে নেতানিয়াহু খানিকটা চাপে পড়েন।

নেতানিয়াহু ১৫ দফার বিরোধীতা করে কেবল অতি-ডানপন্থীদের খুশি করার চেষ্টা করছেন, তেমনটাও নয়। ইসরায়েলের ভোটাররাও তাঁর বিবেচনায় আছেন। বেশিরভাগ ভোটার ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলেও তাদের ভিন্ন অবস্থান আছে। তারা মনে করেন, গাজায় ইসরায়েলের যা খুশি তাই করার স্বাধীনতায় যদি ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে সেটি মারাত্মক ভুল পদক্ষেপ হবে। 

ফলে ট্রাম্পের ১৫ দফার বিরোধীতা করলেও, এর মাধ্যমে নেতানিয়াহু সম্ভবত নির্বাচনের আগে জোটসঙ্গী ও ভোটারদের সন্তুষ্ট করার পথকেই বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের