জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলাকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে কড়া নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
এসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো ধরনের হুমকি ও চাপের মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না।
একই সঙ্গে ইরান অগ্রগতির জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি চায়, অস্ত্র তৈরি করে অন্য দেশ বা সমাজকে হুমকি দেওয়ার জন্য নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
ভাষণে তিনি বলেন, ইরান নিরাপত্তার জন্য সহযোগিতা ও সমন্বয়ে আগ্রহী। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ইরানকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারের সমালোচনা করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা অগ্রগতির জন্য জ্বালানি চাই।
কৃষিসহ বিভিন্ন শিল্পের উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন মেটাতে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ইরানের অগ্রগতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পারমাণবিক প্রযুক্তি কয়েকটি দেশের একচেটিয়া অধিকার হিসেবে থাকতে পারে না। ইরান তার অধিকার থেকে সরে যাবে না বা মাথা নত করবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র নয়, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও নয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, শান্তি যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত হবে না। তবে ইরানের জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য ইরানকে শক্তিশালী হতে হবে, যাতে কেউ দেশটির বর্তমান বা ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে।
তিনি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে কেউ মনে না করে যে দেশটির শহরগুলোতে বোমা হামলার জবাব দেওয়া হবে না।এ কারণেই ইরানের সামরিক শক্তি মূলত প্রতিরক্ষার জন্য।
এসময় কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা এবং যুদ্ধের প্রথম দিনেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত শিশুদের ছবি বিশ্ব নেতাদের সামনে প্রদর্শন করেন তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, আমি এমন এক ইরান থেকে এসেছি যেখানে কোনো আইনি ভিত্তি বা কারণ ছাড়াই আমাদের শ্রদ্ধেয় সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এমন এক দেশ থেকে এসেছি, যেখানে সত্য বলতে তারা একটি স্কুলে বোমাবর্ষণ করেছে।
যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের মিনাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত কোমলমতি শিশুদের ছবি নিজ হাতে পডিয়ামে তুলে ধরে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার দাবি করেন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন পেজেশকিয়ান।
তিনি জানান, গত ২০০ বছরে ইরান কোনো দেশে আগে হামলা চালায়নি, অথচ এখন তেহরানকে আঞ্চলিক অস্থিরতার উৎস ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। নিজেদের রক্ষা করতে ইরান পূর্ণ শক্তিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তবে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে কখনো হামলা চালায়নি। আর নিজেদের রক্ষায় কোনো প্রতিরোধ বা ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরান কারোর অনুমতি বা অনুমোদনের প্রয়োজন মনে করে না।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

