দৈনন্দিন জীবনে চিনি একটি পরিচিত স্বাদ হলেও অতিরিক্ত পরিমাণ চিনি গ্রহণ শরীরের জন্য বিপদ ডেকে আনে। ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং হরমোনজনিত সমস্যার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ। তাই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে প্রাকৃতিক চিনি। প্রকৃতির এমন কিছু উপাদান আছে যা স্বাদে মিষ্টি হলেও শরীরের জন্য তুলনামুলক নিরাপদ ও উপকারী। যেমন-
স্টেভিয়া
স্টেভিয়া বর্তমানে চিনির সবচেয়ে জনপ্রিয় বিকল্প। এটি স্টেভিয়া উদ্ভিদ থেকে তৈরি এবং ক্যালরিহীন। তবে এটি সাধারণ চিনির তুলনায় অনেক বেশি মিষ্টি হওয়ায় অল্প পরিমাণেই কাজ হয়। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ বিকল্প হিসেবে পরিচিত।
শুকনো ফল
কিশমিশ, খেজুর, ডুমুর- এসব শুকনো ফলে প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টতা রয়েছে।ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ হওয়ায় এগুলো হজমে সহায়ক। এসব ফল দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায়।
নারিকেল চিনি
নারকেল ফুলের রস থেকে তৈরি এই চিনি রক্তে শর্করা তুলনামুলকভাবে ধীরে বাড়ায়। গ্লাইসেমিক ইনেডেক্স কম হওয়ায় এটি সাধারণ চিনির চেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত। এতে অল্প পরিমাণে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলেও এটি সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
প্রাকৃতিক মিষ্টতা
খেজুর চিনি ও ফলের পিউরি যেমন কলা, আপেল বা নাশপাতি ব্লেন্ড করে তৈরি মিষ্টি, খাবারে প্রাকৃতিক মিষ্টতা যোগ করে। এই বিকল্পগুলির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এতে ফলের ফাইবার ও প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ বজায় থাকে, যা হজমে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরে থাকার অনুভূতি দেয়।
প্রাকৃতিক মিষ্টি
মধু প্রাচীনকাল থেকে প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কাঁচা ও অপরিশোধিত মধুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ থাকায় এটি প্রদাহ কমাতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যদিও মধুও এক ধরনের চিনি, তবু এর প্রাকৃতিক গুণাগুণ একে বিশুদ্ধ চিনির তুলনায় অনেক বেশি উপকারী করে তোলে।
মনে রাখতে হবে, কোনও মিষ্টিই পুরোপুরি নির্দোষ নয়। সুস্থ থাকতে পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করাই ভালো।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

