বাবাকে নিয়ে কন্যার আর্তনাদ, অঝোরে কাঁদলেন তারেক রহমান

শনিবার,

১৭ জানুয়ারি ২০২৬,

৪ মাঘ ১৪৩২

শনিবার,

১৭ জানুয়ারি ২০২৬,

৪ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

বাবাকে নিয়ে কন্যার আর্তনাদ, অঝোরে কাঁদলেন তারেক রহমান

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৯:০৪, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
বাবাকে নিয়ে কন্যার আর্তনাদ, অঝোরে কাঁদলেন তারেক রহমান

চায়না-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের বাতাস আজ ভারি হয়ে উঠেছিল এক দীর্ঘশ্বাসে। সেখানে কোনো উৎসব ছিল না, ছিল কেবল গত দেড় দশকে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি আর স্বজন হারানোদের গুমরে মরা কান্না। ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় উঠে এলো শত শত পরিবারের বুকফাটা আর্তনাদ আর মর্মস্পর্শী কঠিন স্মৃতিচারণ, যা দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি স্বয়ং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।

শনিবার সকালে, রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে, ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হওয়া পারভেজের কন্যা ঋদি যখন মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াল, পুরো মিলনায়তনে তখন পিনপতন নীরবতা। আড়াই বছর বয়স থেকে মায়ের কোলে চড়ে বাবার খোঁজে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ঋদি। আজ সে বড় হয়েছে, কিন্তু বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্নটা এখনো অপূর্ণ।

ঋদি নিজের মুখে, প্রতি বছর যায়, নতুন বছর আসে, কিন্তু আমার বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর এক বছর পার হয়ে গেল, তবুও কাউকে ফিরে পেলাম না।

ঋদির এই প্রশ্ন আজ কেবল তার একার নয়; মিম, সাফা কিংবা কয়েকশ নিখোঁজ সন্তানের। তাদের শৈশব কেটেছে বাবার ছবির সাথে কথা বলে, আর প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে তারা আজও চমকে ওঠে- এই বুঝি বাবা ফিরল! এমন নিঃশব্দ হৃদয় নিঙরানোর কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদেরকে। 

যেমনটা মাত্র দুই মাস বয়সে সাফার বাবা নিখোঁজ হন। তার আক্ষেপ কখনো বাবাই ডাকতে না পারার। নেই বাবার সঙ্গে কোনো স্মৃতিও। কাঁদতে কাঁদতে সাফা বলছিলেন, একযুগ ধরে বাবার জন্য অপেক্ষা করছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাকে দেখতে পারিনি। বহু জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোনো খোঁজ পাইনি। আর, সমবয়সীদের যখন হাঁটা শেখায় বাবারা, তখন নিজের বাবাকে খুঁজে বেড়ায় তিন বছর বয়সে বাবাকে হারানো মিম।

মঞ্চে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কথা শুনছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যখন একের পর এক স্বজন তাদের নিখোঁজ হওয়া প্রিয়জনের স্মৃতিচারণ করছিলেন, তখন আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে থাকা এই নেতাকে দেখা গেল অশ্রুসিক্ত চোখে। 

স্বজনরা যখন তাদের নিখোঁজ বাবার বা সন্তানের ছবি উঁচিয়ে ধরছিলেন, তখন তারেক রহমান পরম মমতায় তাদের সান্ত্বনা দেন এবং গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় অধ্যায় অবসানের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন ও রাতের অবসান ঘটেছে। এক দুঃসময় আমরা অতিক্রম করেছি। অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের বাবা হঠাৎ করে দরজায় এসে কড়া নাড়বে। অনেক মা হয়তো এখনো অপেক্ষায় রয়ছেন, তার সন্তান হঠাৎ করে বাড়ি ফিরে দেখা দিবে।

সভায় উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা কেবল সহমর্মিতা নয়, বরং স্থায়ী বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। এক ভুক্তভোগী সদস্য বিএনপি চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো হাসিনাকে গুম-খুনের রাজনীতি করার সুযোগ না দেওয়া হয়। এমন কঠোর আইন করতে হবে যাতে কেউ আর কোনো মায়ের বুক খালি করার সাহস না পায়।

সম্মেলন কেন্দ্র অনেক সন্তান তাদের নিখোঁজ বাবার ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। অনেক মা আজও পথ চেয়ে আছেন, হয়ত কোনো একদিন হঠাৎ তার সন্তান দরজায় কড়া নাড়বে। অনেক স্ত্রী বুকে পাথর বেঁধে আশা করছেন, একদিন হয়ত তার প্রিম মানুষটি ফিরে আসবে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষগুলো একে অপরের দুঃখ ভাগ করে নিচ্ছিলেন, যেন তারা সবাই একই বেদনার সুতোয় গাঁথা এক পরিবার।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের এই আর্তনাদ আজ কেবল একটি রাজনৈতিক সভার বিষয় নয়, এটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির এক ক্ষতবিক্ষত দলিল। দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা এই কান্নার শেষ কোথায়, তা কেউ জানে না। তবে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই পরিবারগুলো যে আশার আলো দেখছে, তা যেন কেবল সান্ত্বনায় সীমাবদ্ধ না থেকে ইনসাফ বা বিচারের পথে ধাবিত হয়-  এটাই এখন সময়ের দাবি।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের